অপুকে দেখিচিস্ ও দিকে?
আশালতা বলিল—না খুড়ীমা, দেখিনি তো! কথায় গিয়েচে? তারপর হাসিয়া বলিল—কি ব্যাঙ-ডাকানি জল হয়ে গেল খুউীমা!
—সেই ঝডের আগে দুজনে বেরিয়েচে আম কুড়োতে যাই ব'লে, আর তো ফেরেনি—এই ঝড়-বিষ্টি গেল, সন্দে হোল, ও মা কোথায় গেল তবে?
সর্ব্বজয়া উদ্বিগ্ন মনে বাড়ীর মধ্যে ফিরিয়া আসিল। কি করিবে ভাবিতেছে এমন সময় খিড়কীর দরজা ঠেলিয়া আপাদমস্তক সিক্ত অবস্থায় দূুর্গা আগে একটা ঝুনা নারিকেল হাতে ও পিছনে পিছনে অপু একটা নারিকেলের বাগলো টানিয়া লইয়া বাড়ী ঢুকিল। সর্ব্বজয়া তাড়াতাড়ি ছেলে মেয়ের কাছে গিয়া বলিল—ওমা আমার কি হবে! ভিজে যে সব একেবারে পান্তাভাত হইচিস্! কোথায় ছিলি বিষ্টির সময়? ছেলেকে কাছে আনিয়া মাথায় হাত দিয়া বলিল—ওমা, মাথাটা যে ভিজে জুবড়ি। পরে আহ্লাদের সহিত বলিল—নারকোল কোথা পেলি রে দুর্গা?
অপু ও দুর্গা দুজনেই চাপা কণ্ঠে বলিল—চুপ চুপ মা—সেজজেঠিমা বাগানে যাচ্ছে—এই গেল—ওদের বাগানের বেড়ার ধারের দিকে যে নারকোল গাছটা? ওর তলায় প'ড়ে ছিল। আমরাও বেরুচ্চি সেজ-জেঠিমাও ঢুকলো।
দুর্গা বলিল—অপুকে তো ঠিক দেখেচে—আমাকেও বোধ হয় দেখেছে। পরে সে উৎসাহের সঙ্গে অথচ চাপ সুরে বলিতে লাগিল—একেবারে গাছের গোড়ায় প'ড়ে ছিল মা, আগে আমি টের পাইনি, সোনামুখী তলায় যদি আম প'ড়ে থাকে তাই দেখতে গিয়ে দেখি বাগলোটা প'ড়ে রয়েচে। অপুকে বললাম—অপু, বাগ্লোটা নে—মার ঝাঁটার কষ্ট, ঝাঁটা হবে। তারপরই দেখি,—হস্তস্থিত নারিকেলটার দিকে উজ্জ্বল মুখে চাহিয়া বলিল—বেশ বড়, না মা?
অপু খুশির সুরে হত নাড়িয়া বলিল—আমি অম্নি বাগলোটা নিয়ে ছুট—
সর্ব্বজয়া বলিল—বেশ বড় দোমালা নারকোলটা। ছেঁচতলায় রেখে দে, জল দিয়ে নেবো—
অপু অনুযোগের সুরে বলিল—তুমি বলো মা নারকোল নেই, নারকোল নেই,—এই তো হোল নারকোল। এইবার কিন্তু বড় করে দিতে হবে। আমি ছাড়বে না—কখ্খনো—
বৃষ্টির জলে ছেলেমেয়ের মুখ বৃষ্টিধোয়া জুঁই ফুলের মত সুন্দর দেখাইতেছিল। ঠাণ্ডায় তাহাদের ঠোঁট নীল হইয়া গিয়াছে, মাথার চুল ভিজিয়া কানের সঙ্গে লেপটাইয়া লাগিয়া গিয়াছে। সর্ব্বজয়া বলিল—আয় সব, কাপড় ছাড়িয়ে দিই আগে, পায়ে জল দিয়ে রোয়াকে ওঠ্, সব—
থানিক পরে সর্ব্বজয়া কূয়ার জল তুলিতে ভুবন মুখুয্যের বাড়ী গেল। ভুবন মুখুয্যের খিড়কী-দোর পর্য্যন্ত যাইতেই সে শুনিল সেজঠাক্রুণ বাড়ীর মধ্যে চীৎকার করিয়া বাড়ী মাথায় করিতেছেন।
—একটা মুঠে টাকা খরচ ক'রে তবে বাগান নেওয়া—মাগ্না তো নয়। তার কোনো গাছটা—যদি হাঘরেদের জন্যে ঢুকবার জো আছে! ঐ ছুঁড়ীটা রাদ্দিন বাগানে বসে আছে। কুটোগাছটা