রকম-রকম গেরুয়া আর রকম-রকম ফ্যাসনের কৌপিন, পাগ্ড়ি জটা, তিলকের সাজসজ্জা আছে। আমি তখন যোগ-সাধনের ইন্ফেণ্ট ক্লাসে বা ইন্ফেন্ট্রী, দলে সবে ভর্ত্তি হয়েছি। কাজেই আমার উদ্দিটা হল সাদা লুঙ্গী, সাদা পাঞ্জাবি-কোর্ত্তা, মাথায় সাদা পাগ্ লম্বা ল্যাজ আর সেই ল্যাজের গোড়াতে একটুখানি গেরুয়া পাড়; হাতে বাঁশের ছড়ি, পায়ে খড়ম, গলায় তেঁতুল-বিচির মালা; কপালে ছাই। সারা পাগড়ি-কোর্ত্তা-লুঙ্গী গেরুয়া হয়ে শেষে খালি গায়ের চামড়ায় গিয়ে পৌঁছোতে আমার অনেক বাকি। আমার যিনি গুরু, তিনিও অতদূর এখনো অগ্রসর হতে পারেন-নি। কিন্তু তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। বাবার উপদেশ-মতো খুব উৎসাহের সঙ্গে সবটা গেরুয়া উর্দ্দি যত শীঘ্র পারি লাভ করবার চেষ্টা করতে লাগলুম। ওদিকে বাবার সেবা করতে, সন্ন্যাসী খাওয়াতে, তীর্থ সারতে আমার জেবের সব গিনি-সোনা এক-মোড়ক হরিতাল-ভস্মে ক্রমে পরিণত হয়েছে। আমার হাতে সেই ভস্মটুকু দিয়ে বাবা বল্লেন—“যাও বাবা, এখন সংসারে ফিরে যাও, সেখানে তোমার অনেক কাজ বাকি রয়েছে।” আফিসের কাজ, ঘরের কাজ, বাইরের কাজ, অনেক কাজই বাকি রেখে চলে এসেছি। কিন্তু সে যে হল অনেকদিন। কাজগুলো আমার জন্যে এখনো বসে আছে কিনা জানিনে। তাছাড়া হাতে আমার বাকি রয়েছে মাত্র সেই হরিতাল-ভস্মের মোড়ক। সেটাও সত্যি ভস্ম কিনা, তারও পরীক্ষা করতে সাহস হচ্ছে না। অবিনকে তখন একখানা
পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১০১
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ছাইভস্ম
৯৭