বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

চিঠি লিখে সব খবর জানাবার ইচ্ছে হ’ল। আমি হরিতাল-ভস্মের মোড়ক বাবার কাছে বাঁধা-রেখে ডাক-টিকিটের জন্যে দুটো পয়সা চাইতে গেলুম। তিনি খুব গম্ভীর হয়ে বল্লেন—“বাবা, আমরা মুক্তির মন্ত্র সাধন করি, কোনো কিছু বাঁধা রাখা তা আমাদের দ্বারা হতে পারে না। সন্ন্যাসী কি কখনো মহাজন হয় বাবা?”

 বাবার মধ্যে মহাজনী যে এতটুকু নেই, তাই দেখে ভক্তিতে আমার বাক্‌রোধ হয়ে গেল। আমি ‘বিফল জনম, বিফল জীবন’ আর-একবার মনে-মনে গাইতে-গাইতে বাঙালিটোলার গলি পেরিয়েছি, এমন সময় অনেকদিনের পরে অবিনের সঙ্গে দেখা।

 সে ঠিক তেমনি আছে;— কোনো বদল হয়নি। কথায়-কথায় জানলুম যে গয়ায় চলেছে— আমাদের জাহাজের সেই লেট্ সভার সঙ্গে-সঙ্গে বাংলার যতরকম সভা আছে ও নেই, ব্রাহ্মণশূদ্রনির্ব্বিশেষে সব ক’টার পিণ্ডদান করতে। আমারো তখন পিণ্ডি দেবার জন্যে হাত নিস্‌পিস্‌ করছিল, কিন্তু কার সেটা আর বলে কাজ নেই।

 গাড়িতে উঠে আমি অবিনকে বল্লেম—“ওহে গরার সাধুসন্ন্যাসীদের খুসি করবার মতো কিছু পকেটে এনেছো তো?” অবিন হাতের মোটা লাঠিগাছা দেখিয়ে বল্লে—“যথেষ্ট।”

 কাশী থেকে গয়া কত দূরই বা? কিন্তু সময় তো লাগছে অনেকটা!—এই ভাবতে-ভাবতে চলেছি এমন সময় অন্ধকারের মধ্যে একটা ষ্টেশনে গাড়ি থামতেই অবিন চট্ করে আমার হাত

৯৮