বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ছাইভস্ম

ধরে গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। একটা ঝড় হ’য়ে প্ল্যাটফ্‌রমের সব আলো নিভে গেছে। অন্ধকারে একটা সাদা মোটর দাঁড়িয়েদাড়িয়ে ভেঁপু দিচ্ছিল। অবিন আমায় নিয়ে তাতে উঠে বসলো। মোটরখানা কোনো হোটেলের ভেবে আমি অবিনকে বল্লেম— “ওহে, আমার এ-বেশে তো হোটেলে ওঠা সম্ভব হবে না! কোনো ধর্ম্মশালায় গিয়ে থাকলে হয়—না?” অবিন আমার পিঠ চাপড়ে বল্লে —“ধর্ম্মশালা থেকে অনেকদূরে এসে পড়েছি যে! এখনো বুঝি ওটার মায়া কাটাতে পার-নি?” বল্তে বল্তে-গাড়ি একটা ব্রীজ পেরিয়ে বাঁ-হাতে মোড় নিয়ে দাঁড়ালো। অবিন গাড়ি খুলে লাফিয়ে পড়লো। আমিও নাম্‌বো, এমন সময় আমার পাগড়ীর ল্যাজটা গেল মোটরের একটা চাবিতে বেধে! ল্যাজের গেরুয়া—অংশ, তার সঙ্গে অনেকটা সাদা ফালিও ভাড়ার উপর বখশিশ—হিসেবে গাড়োয়ানকে দিয়ে আমরা দুই বন্ধুতে নদীর ঘাটে শ্রাদ্ধ আর পিণ্ডদান করতে বসে গেলুম। অনেকগুলো সভা, পিণ্ডি তো কম দিতে হলোনা? সব সারতে ভোর হল। শ্রাদ্ধ সেরে সূর্য্যের প্রণাম করতে গিয়ে দেখি আমাদের বড়বাজারের শ্রাদ্ধঘাটে বসে আছি। সেই সিঁড়ি, সেই মার্বেল-পাথর-মোড়া ঘরে তেমনি মিন্‌টান্ টালির বাহার। আমি তো অবাক্! সন্দেহ হলো যে হরিদ্বার-যাত্রাটার মতো এ-যাত্রাটাও বুঝিবা অতিশয় সত্যি!

 অবিনের দিকে চাইলেম, তারও চেহারাটা কেমন

৯৯