বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

ঝাপ্‌সা বোধ হল,—যেন কুয়াশার মধ্যে দিয়ে তাকে দেখছি! কুয়াশাটা আমার মাথার ভিতরে, কি বাইরে জমা হয়েছে সেটা বুঝতে না পেরে আমি কাপড়—ছেড়ে ব্রহ্মতেলোয় হাত বোলাচ্ছি এমন সময় আমাদের জাহাজের বাবাজী এসে আমার সামনে “জয় সত্যনারাণ!” বলে হাত পাতলেন। আমি তাঁকে সত্যিই ষোলআনার এক—আনা দেব বলে জেবে হাত দিতেই আমার হাতে ঠেকল সত্যি-নারাণের কোনো কাজেই যেটা লাগবে না হরিতাল-ভস্মের সেই মোড়ক—যেটা অবিনের চেয়ে, হরিদ্বারের চেয়ে, কাশী-গয়া, কলকাতার মোটরগাড়ি, শ্রাদ্ধের মন্তর, বাবাজী, এমন কি আমার নিজের চেয়েও সত্যি, সত্যি, সত্যি— সত্যি ছাড়া মিথ্যে নয়।

 আটটা-ঊনপঞ্চাশের জাহাজ বাঁশী বাজিয়ে পণ্টুনে লাগল। অবিন, আমি, বাবাজী এবং আরো প্রায় জন-পঞ্চাশ গিয়ে জাহাজের কেউ প্রথম, কেউ দ্বিতীয়, কেউ তৃতীয় শ্রেণী, কেউ-বা কোনো শ্রেণীই নয় দখল কল্লেম।