জন্য এমন-এক সাধকের সন্ধান করছি, সেই সময় আমার এক আর্টিষ্ট বন্ধুর সঙ্গে দেখা। তাঁর সঙ্গে কথায়-কথায় ‘মোহিনী’র ছবিটা যে কেমন-করে আমাকে পেয়ে বসেছে সেই ইতিহাস উঠল। বন্ধু আগাগোড়া ব্যাপারটা আমার মুখে শুনে বল্লেন—“তোমার দশা সেই গ্রীসদেশের ভাস্করটার সঙ্গে মিলছে দেখছি!” আমি বল্লেম—“তার সামনে তো তবু তার 'মোহিনী' প্রাণটুকু ছাড়া আর-সমস্তটা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল; কিন্তু আমার 'মোহিনী' যে অবগুণ্ঠনের আড়ালেই রহে গেছে হে! এর উপায় কিছু বাৎলাতে পার?” বন্ধু আমায় উপায় বাৎলে—বাড়ী গিয়ে এক শিশি আরক আমাকে দিয়ে পাঠালেন। সেকালটা যদিও আমাকে বারো-আনা গ্রাস করেছিল তবু মনের এক-কোণে একালের বিজ্ঞানটার উপরে একটু যে শ্রদ্ধা, তা তখনো দূর হয় নি। আমি বন্ধুবরের কথা-মতো ঘড়ি-ধরে হিসাব করে সেই আরকটা সমস্ত 'মোহিনী'র ছবিখানায় ঢেলে দিলেম। সে-আরকটার এমন তীব্র গন্ধ যে আমায় যেন মাতালের মতো বিহ্বল করে তুল্লে। তারপর কখন যে অজ্ঞান হয়ে পড়েছি তা মনে নেই। এইটুকু মাত্র জানি যে আরক ঢালবার পরে 'মোহিনী'র ছবিখানা ধোঁয়ায় ক্রমে ঝাপ্সা হয়ে আস্ছে; আর আমি ভাবছি এইবার মেঘ কাট্লো।
একমাস পরে কঠিন রোগশয্যা থেকে শেষে নিষ্কৃতি পেয়ে আরএকবার এই ছবিখানার দিকে চেয়ে দেখলেম, সেটার উপর থেকে