দিয়া আলোকে ফুটাইতে, প্রতিঘাত দিয়া শব্দকে জাগাইতে, সেখানে কিছুই নাই;—অথচ মনে হয় না যে একা! সঙ্গে ছয়–ছয় বেহারা চলিয়াছে বলিয়া নয়; কিন্তু এই প্রকাণ্ড শূন্যতা যে নির্জীব নহে, সেটা স্পষ্ট অনুভব করিতেছি বলিয়া। এটা যে শ্মশান নয়, এখানেও যে বিরাট প্রাণের স্পন্দন অবাধে আমার চারিদিকে হিল্লোলিত, তাহা বেশ বুঝিতেছি। স্তব্ধ রাত্রি জুড়িয়া লক্ষকোটি কীটপতঙ্গের ঝিনিঝিনি, দূরে অদূরে কাহাদের নুপুর-শিঞ্জিনীর মতো তালে-তালে উঠিতেছে পড়িতেছে,—তাহা কানে আসিতেছে না সত্য; অকূল অন্ধকারের ভিতর দিয়া আমাদের সাড়া পাইয়া হরিণের পাল ছুটিয়া চলিয়াছে,—চোখে পড়িতেছে না বটে; কিন্তু মন তাহার সহস্র পরিচয় পাইতেছে এবং আপনাকে নিঃসঙ্গ মানিতেছে না! লোকালয়ে নিজেকে অনেক সময়ে একাকী বোধ করিয়াছি, কিন্তু কোণার্ক-যাত্রার প্রথমেই এই যে শিশুর মতো ধরিত্রীর কোলে ঝাঁপাইয়া পড়ার আনন্দ,—নিখিলের সহিত আপনাকে সঙ্গত জানার আনন্দ—ইহাতে প্রাণ যেন দুলিতে থাকে,—মনেই আসে না, একা চলিয়াছি।— চলার আনন্দ! নিখিলের সহিত দুলিয়া চলার আনন্দ! শূন্যের মাঝ দিয়া উড়িয়া চলার আনন্দ! প্রদীপ নিভাইয়া আলোকের কোনো অপেক্ষা না রাখিয়া অন্ধকারের ভিতর দিয়া ভাসিয়া চলার আনন্দ!
চক্রতীর্থ হইতে বালুঘাই পর্য্যন্ত সমস্ত পথটা আনন্দের একটা জাগরণের মধ্য দিয়া যেন উড়িয়া আসিয়াছি। এইখানে আসিয়া