পাড়ি দিয়াছি যে ঘাট হইতে তাহার সংবাদ এখনো পাইতেছি; পাড়ি দিতেছি যে-পারে, তাহার সংবাদ এখনো পাই নাই;— মাঝগঙ্গায় মন সমস্ত পাল তুলিয়া যেন মন্থর গতিতে ভাসিয়া চলিয়াছে—আলোকরাজ্যের সিংহদ্বারের দিকে।
প্রাতঃসন্ধ্যার ভরপূর অন্ধকার। তারার আলো নিভিয়া গেছে। প্রভাতের আলো—সে এখনো সুদূরে। এই সাড়াশব্দ হীন ধূসরতার মাঝে, ক্ষণেকের জন্য আমরা থমকিয়া দাঁড়াইয়াছি —কাঁধ বদলাইতে।
হরিণ যেমন বহুপথ দৌড়িয়া হঠাৎ একবার উৎকর্ণ, উদ্গ্রীব হইয়া দাঁড়ায়, তারপরে পথের ঠিকানা পাইয়া তীরের মতো সেইদিকে চলিয়া যায়, তেমনি আমরা উড়িয়া চলিয়াছি—সিন্ধুতীরের নিষ্কলুষ ধবলতার উপর দিয়া, একটা বিশাল গম্ভীর কল্লোলের মুখে—নির্ভয়ে, বাতাসে বুক ফুলাইয়া।
জ্যোতিমন্দিরের সিংহদ্বার অতিক্রম করিতেছি। আলো গলিয়া আমাদের পায়ের নীচে বিছাইয়া যাইতেছে, শব্দ গলিয়া আমাদের আশেপাশে প্রদীপ্ত হইয়া উঠিতেছে। যতদূর দৃষ্টি চলে, ততদূর কালো-সমুদ্রের সাদা আলো, মায়ার প্রাচীরের মতো, অবিরাম চোখের সম্মুখে জাগিয়া উঠিতেছে, ভাঙিয়া পড়িতেছে!
রাত্রি চতুর্থ প্রহর। বিশ্বমন্দিরে উত্থান-আরতি বাজিতেছে। কালোর দুন্দুভি, আলোর তালে ধ্বনিত হইতেছে—দিকে দিগন্তে