বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

লাগিয়াছে, সমুদ্র-তরঙ্গ বহিয়া তাহারই প্রভা গড়াইয়া আসিতেছে। পাণ্ডুর তটভূমি দেখিতে—দেখিতে রক্তচন্দনের প্রলেপে প্লাবিত হইয়া গেল, রক্তবৃষ্টিতে চন্দ্রভাগার তীর্থজল রাঙিয়া উঠিল; মৈত্রবনের শিখরে কোণার্ক-মন্দিরের প্রত্যেক কোণ, প্রতি শিলাখণ্ড, আতপ্ত রক্তের সজীব প্রভা নিঃশেষে পান করিয়া অনঙ্গ দেবতার উল্লসিত কেলিকদম্বের মতো প্রকাশ পাইতে লাগিল।

 মানুষের গড়া কোণার্কের এই বিচিত্র রথ দেখিতেছি—কত যেন ক্ষুদ্র! সূর্য্যের তেজ ধারণ করিয়া, তাহারই শক্তিতে ঊর্দ্ধে বাড়িয়া আপনাকে চিরশ্যামল, চিরশোভন রাখিয়াছে এই যে বনস্পতি, ইহারও ঊর্দ্ধে কোণার্কের রথধ্বজা উঠিয়া তিষ্ঠিতে পারে নাই;—আপনার ভারে আপনি ভাঙিয়া পড়িয়াছে!

 জরাজীর্ণ, বজ্রাহত এই মন্দিরের উপর হইতে অরুণোদয়ের রক্ত আভার মোহ সরিয়া গেছে। দিনের প্রখর আলোয় সে তাহার সমস্ত দীনতা লইয়া বনস্পতিটির আড়ালে আপনাকে যেন গোপন করিতে চাহিতেছে, মিলাইতে চাহিতেছে! দূর হইতে কোণার্কের এই হীন এবং দ্বীন ভাব মনকে যেন লোহার মতো শক্ত করিয়া দিয়াছে। উহার দিকে আর এক—পাও অগ্রসর হইতে ইচ্ছা নাই। কিন্তু তবু চলিয়াছি—চন্দ্রভাগা উত্তীর্ণ হইয়া, অসমতল কালিয়াইগণ্ড পায়ে-পায়ে অতিক্রম করিয়া—মানবশিল্পের একটা সুবিদিত আকর্ষণ-বশে— চুম্বকের টানে লোহার মতো।

১১৪