বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

চলেছে; তার চলার প্রচণ্ড বেগে লোহার খাঁচাটা পৃথিবীর বুকআঁচ্ড়ে চারিদিকে অগ্নিকণা ছিটিয়ে অন্ধকুহরের ভিতর ক্রমান্বয়ে এগিয়ে চলেছে।

 সুদীর্ঘ অনিদ্রা, অফুরন্ত অস্থিরতা, তার পরে বিরাট অবসাদ! নির্জ্জীব প্রাণ নিরুপায় অবোলা একটা জন্তুর মতো চুপ কোরে পড়ে আছে—অপার অন্ধকারের মুখে দুই-চোখ মেলে।

 একটুখানি আলোর আঘাত,—নিশীথ-বীণায় সোনার তারের একটুখানি তীব্র কম্পন। ঊষার অচঞ্চল শিশির, তার মাঝখানে একটিবার স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছি—নূতন দিনের দিকে মুখ কোরে। পৃথিবীর পূর্ব্বপার-পর্য্যন্ত অনেকখানি অন্ধকার এখনো রাশীকৃত দেখা যাচ্ছে। কৃষ্ণসার চর্ম্মের মতো একটি কোমল অন্ধকার, তারি উপরে আলোর পদক্ষেপ ধীরে ধীরে পড়ছে! সম্মুখে দেখা যাচ্ছে একটি পদ্মের কলিকা জলের মাঝে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে;—যেন ভূদেবী বিশ্বদেবতাকে নমস্কার দিচ্ছেন।

 পথিক যেমন পথ-চল্তে ক্ষণিকের মতো পথপ্রান্তে দেবতার দেউলটিতে একটি নমস্কার দিয়ে পুনরায় চল্তে আরম্ভ করে, আমরা তেমনি এই প্রাতঃসন্ধ্যাটিকে প্রণাম কোরেই যেন আবার অগ্রসর হচ্ছি।

 একটা কূলকিনারা-হারা বালুচরের ঠিক আরম্ভে রাত্রি প্রভাত হয়েছে। আকাশের বর্ণ দূরে-দূরে নদীর ক্ষীণ ধারাগুলিকে সুতীক্ষ্ণ ছুরির মতো উজ্জ্বল কোরে তুলেছে। পৃথিবীর শেষ—প্রান্ত-পর্য্যন্ত

১১৮