বিস্তৃত হয়ে পড়েছে—পরিস্কার ফিরোজার একটি মাত্র প্রলেপ; তার উপরে একঝাড় কুশ আর কাশ। নুতন সূর্য্যালোক কাশ—ফুলের শ্বেত-চামরের উপরে আবীর ছড়িয়ে সমস্ত ছবিটিকে রাঙিয়ে তুলেছে। নির্জ্জন এই নদীর পার, নিঃশব্দ নিশ্চল এই নদীপারের বালুচর,—এর ভিতর দিয়ে জলের ক্ষীণধারা আমাদেরই মতো মন্দগতিতে চলেছে।
নদী থেকে শত-শত হাত ঊর্দ্ধ দিয়ে সেতুপথ বেয়ে চলেছি। একটি মৃদুমন্দ দোলা, গতির একটা শিহরণ মাত্র,—এছাড়া আরকিছু অনুভব হচ্ছেনা। চলেছি, চলেছি— দিনের মন-ভোলানো সবুজের মাঝ দিয়ে, রাতের ঘুমপাড়ানো নীলের দিকে।
অশেষ পথ, সুদীর্ঘ প্রহর-পলের ভিতর দিয়ে, ক্রমাগত চলেছে; দিন ও রাত্রি এই পথের দুইধারে নিরাবরণ ও আবরণের দুইখানি মায়াজাল রচনা করতে-করতে আমাদেরই সঙ্গে চলেছে।
বারাণসী—মন্দির-মঠের একটা প্রকাণ্ড অরণ্য; দ্বিপ্রহরের সূর্যালোকে তার সমস্তটা সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে,—জনশূন্য স্নানের ঘাটে সোপানের কোলে-কোলে নদীজলে বিজলী রেখাটি থেকে, তপ্ত পথে নিঃশব্দে যে-যাত্রীরা চলেছে তাদের গাঢ় ছায়াটি পর্য্যন্ত। এ যেন একটা মায়াপুরীর দিকে চেয়ে রয়েছি! পাষাণ-প্রাচীরগুলো থেকে একটা উত্তাপ মুখে এসে লাগছে, নাগরিকদের সমস্ত গতিবিধি কার্য্যকলাপ আমাদের চোখে পড়ছে স্পষ্ট, কিন্তু তাদের কোনো সাড়াশব্দ আমাদের কাছে পৌঁছতে পারছেনা। এ যেন