বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

সাগরের দিকে নেমে আসা—এরি মাঝে মুহূর্ত্তের বিশ্রাম এই পান্থশালার কুঞ্জতীরে।

 পর্ব্বতের নীলের ভিতরে প্রবেশ করছি। চোখ-জুড়ানো নীল অঞ্জন, ঘুম—পাড়ানো নীল রহস্য,—এরি একটি স্নিগ্ধ আভা সমস্ত দিনটিকে, সকল পথটিকে সুশীতল করেছে।

 পাহাড়ের একটা বাঁক। মেঘ-ফাটা রৌদ্রে একখানা প্রকাণ্ড পাথর, মাথায় একবোঝা শুক্‌নো ঘাস চাপিয়ে, পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছে। ওধারে ভীষণ একটা ভাঙন—পাহাড়ের গায়ে অগ্নিদাহের ক্ষত-চিহ্নের মতো কালো দেখা যাচ্ছে। প্রখর রুদ্রমুর্ত্তিতে দিক্‌বিদিক্‌ এখানে দেখা দিয়েছে— যেন দুঃস্বপ্নহত! একটা নির্জীব ঘোড়া এরি মাঝ দিয়ে একরাশ পাথর বহে চলেছে —পাষাণ-প্রাচীর-ঘেরা একটা রাজ-অট্টালিকার দিকে।

 এ-পাহাড়ের আর-একটা বাঁক। বনতরুর ঘন-পল্লবের তলায় ছায়া—একখানি নীড়ের মতো—পায়ের তলা থেকে মাথার উপর পর্য্যন্ত ঘিরে নিয়েছে। চির-রাত্রি এখানে অবগুণ্ঠন টেনে, কোলের মধ্যে ঝরা-পাতা নব-কিশলয় জীবন-মরণ সবাইকে নিয়ে দোলা দিচ্ছেন—নির্জ্জনে, মেঘ-রাজের গোপন অন্তঃপুরে।

 পর্ব্বতের সানুদেশ অতিক্রম করছি। দুইধারে উপবন; তারি মাঝ দিয়ে পথ; জনমানব নেই; কিন্তু সমস্ত যেন কারা সযত্নে, সুমার্জিত করে রেখেছে! সুবিন্যস্ত তরুশ্রেণী, সুশ্যাম সুচারু তৃণভূমি; তারি প্রান্তে দেখা যাচ্ছে পার্ব্বতী মন্দির-

১২২