মোহড়ায় একটা লোক সরকারি-আফিসে বোসে যত লোকের কাছে চুঙ্গি আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। একটা বুভুক্ষিত কুকুর এইখানের চারিদিকে মাটি-শুঁকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্ব্বতের সুনীল ছায়া, সমস্ত শোভা, এই শুষ্ক ভূমিটাকে ছেড়ে, দেখছি, অনেক দূরে পিছিয়ে গেছে! এ যেন আকাশের উপরে একটা রাশীকৃত পাথর আর ধূলার মরুভূমি! এরি পরে বনের নীলের মধ্যে আর—একবার অবগাহন। সেখানে পায়ের তলায় পাহাড় ক্রমান্বয়ে অন্ধকারের ভিতরে গড়িয়ে গেছে। দিন সেখানে যেতে পারেনি; কেবলমাত্র কেলুবনের শিখরে— শিখরে পূর্ব্ব—সন্ধ্যার একটু ধূসর জ্যোতি নিক্ষেপ করেই ক্ষান্ত হয়েছে। সূর্য্যদেব এখন মধ্য-গগনে বিরাজ কচ্ছেন, কিন্তু এই বনরাজির তলায় শিশিরসিক্ত ঝরা-পাতার বিছানায় এখনো রাত্রি! ঝিল্লিরবের ঘুম-পাড়ানো সুর এখানে বাজছেই—কিবা রাত্রি, কিবা দিন। পুরাতন অরণ্যানীর নিসুপ্তির মধ্যে এই একটিমাত্র ডুব দিয়েই পথ একেবারে জনতা, সভ্যতা, কর্ম্মকোলাহলের মাঝখানে গিয়ে মাথা তুলেছে। একটা মানুষ এখানে কর্কশ গলায় চীৎকার কোরে কেবল ডাকছে— “ফাল্তো, ফাল্তো, এ ফাল্তো! এরে বেকার কুলী!”
সভ্যতার এই প্রবেশ—দ্বারেই একদিকে রয়েছে দেখি ‘ওল্ডব্রুয়ারী’ বা পুরাতন মদের ভাটি; আর-একদিকে কতকগুলা দোকান ঘর; সেখানে একটা দর্জি, সে বোসে কাপড় ছাঁটছে,