থেকে সাতটা-পঞ্চাশের ষ্টীমারের ফার্ষ্টক্লাসের সব-আগের দুটো বেঞ্চির কোণে নষ্টামি, ভাঁড়ামি, গাঁজাখুরি গল্প, যাত্রা, গান, কবীর এবং তুলসীদাসের পদাবলী দিয়ে আমরা দিব্যি একটি কুঁড়েমির নীড় বেঁধে নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা আরামে কাটাচ্ছিলেম; উপসর্গের উৎপাতে যথন আমাদের সে নীড় ভাঙো-ভাঙো,―গানও জমছেনা, গল্পও প্রায় বন্ধ, ঠিক সেই সময় একটা লোক, তার চক্চকে কালো ইরাণী টুপি, টুপির চেয়ে কালো ঝোলা দাড়ি, মোচড়ানো গোঁপ, চামড়ার পুস্তিন্ আর সোনা-বাঁধা গেঁটে-বাঁশের মোটা লাঠিটা নিয়ে হাজির হল এবং ঠিক তার আসার সঙ্গেই ষ্টীমার-কোম্পানী আমাদের আগের জাহাজখানা বদ্লে আকাশের দিকে নাক-তোলা, ঘুপসি্ এবং অতিরিক্ত-রকম কম-চওড়া ও অধিক-লম্বা ষ্টীমার বড়বাজারের ঘাটে এনে হাজির কল্লে, তখন আমি সে-লোকটাকে শেমুষি বলে স্থির করে নিতে একটুকু দেরী কল্লেম না,—যদিও অবিন তাকে গিরগিটির চেয়ে উচ্চপদ দিতে মোটেই রাজি হয় নি।
এই জাহাজখানায় চড়ে আনাগোনা কচ্ছি বটে কিন্তু এখানার সবই আমাদের অপরিচিত খট্মটে ঠেকছে। এটার বয়লারগুলো কেল্লার বুরুজের মতো লোহার চাদরে ঢাকা; এটার খালাসী থেকে সারেং-সুগনী সবাই যেন গোরাদের চুরুটের এবং মদের একটা উৎকট গন্ধ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে;— আমাদের সুবিধে-অসুবিধের দিকে তাদের দৃষ্টিই নেই। আর মকরের শুঁড়ের মতো আগা-তোলা