বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিচরণ

ঘুমিয়ে গেছে সব ফুলগুলি। সেখানে বসন্ত দেখা দেয় শীতের আসরে শিউলি-ফুল ছড়িয়ে; এখানে শীশু আসে বসন্তের সভায় সাদা চাদর টান্‌তে-্টান্‌তে, ফুল মাড়িয়ে।

 শীত গলে-পড়ছে বর্ষায়, বর্ষা ফুটে উঠছে বসন্তে, বসন্ত ক্ষীন্ন হতে-হতে শরতের জ্যোৎস্নার মধ্যে—দিয়ে ঝিক্‌মিক্‌ করতে-করতে তুষারের শুভ্রতায় গিয়ে শেষ হচ্ছে; এখানের ছন্দটা এইরূপ।

 এখানে এসে অবধি হিমালয়কে একবার দেখে নেবার জন্যে উঁকি দিচ্ছি—এখানে-ওখানে, সকালে-সন্ধ্যায়। কিন্তু অচল সে, কুয়াশার ভিতরে কোথায় যে চলে গেছে, সপ্তাহ ধরে তার সন্ধানই পাচ্ছি না।

 এ যেন একটা নিহারিকার গর্ভে বাস করছি! দিন এখানে আছে—উত্তাপহীন অনুজ্জ্বল; রাত আস্ছে—অঞ্জনশিলার মতো হিম অন্ধকার।

 আমার চারিদিকে সবেমাত্র দশবিশ হাত পৃথিবী—গুটিকতক ফুল-পাতা নিয়ে,—যেন অগোচরের কোলে একটুক্‌রো জগৎ; আর আমরা যেন এক—ঝাঁক দিশেহারা পাখী এইখানটায় আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের কাছে চারিদিক এখনো অপরিচিত রয়েছে। শিল্পী এখনো যেন তাঁর রং-তুলির কাজ শুরু করেননি,—সবেমাত্র কুয়াশার শুভ্রতার গায়ে পার্ব্বত্য দৃশ্যের আমেজ একটু-একটু দেগে রেখেছেন— অসম্পূর্ণ, অপরিস্ফুট।

 এই-যে পরিচয়ের পূর্ব্বমূহূর্ত্তে কুয়াশার যবনিকাটি দুল্ছে—

১২৭