বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

এপারে-ওপারে বিচ্ছেদের সূক্ষ্ম ব্যবধান—একে সরিয়ে যেদিন শুভদৃষ্টি হবে, সেদিন অন্তর গিয়ে মিলবে বাহিরে, বাহির এসে লাগবে অন্তরে! এই কথাটাই একগোছা সবুজ-পাতা আমার জানলার কাচের বাহিরে কেবলি ঘা-দিয়ে-দিয়ে জানাচ্ছে—কাচের এপারে ঘরের বন্দী প্রকাণ্ড একটা পতঙ্গকে। অজানার দিক থেকে একটির-পর-একটি দূত-চঞ্চল একটি নীল পাথী, ছোট একটি মৌমাছি—তরুলতার কানে-কানে অপরাজিতার ঘোমটা একটু খুলে, এই কথাই জানিয়ে যাচ্ছে—দিনের মধ্যে শতবার।

 আজকের সন্ধ্যাটি শীতাতুর কালো হরিণের মতো পাহাড়ের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো—অন্ধকারের দিকে মুখ কোরে। কলঙ্কধরা একখানা কাঁসরের মতো গভীর রাত্রিটাকে কালো ডানার ঝাপ্‌টায় বাজিয়ে তুলে মস্ত—একটা ঝড় আজ মাথার উপরে ক্রমান্বয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে—যেন দিশেহারা পাগল পাথী।

 রাত্রিশেষে বর্ষা দিকবধূর কাছে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। আকাশের নীল চোখে সরু একটি কাজল-রেখার কোণে একটুখানি অরুণ আভা দেখা যাচ্ছে; আর যতদূর দৃষ্টি যায় কেবল দেখছি ধূসরের অচল ঢেউ, দিকের শেষ-সীমা পর্য্যন্ত;—আর রংও নেই, রূপও নাই! এই অবিচিত্রতার মধ্যে একটি মাত্র পাহাড়ি-ফুলের কুঁড়ি, বসন্তের নববধূ সে, আলোর প্রতীক্ষা করছে! প্রজাপতির পাখার চেয়ে সুকুমার এর পাব্ড়িগুলি; এত ছোট, এত কচি— একেই ঘিরে আজ প্রভাতের সমস্ত সুর। সুদূর গিরি-শিখরে,

১২৮