হিমালয়ের সম্মুখে দেবদারু-বনের ছায়ায় এসে লুকিয়ে পড়েছে; এই দিকটাতে সে শৈবল-কোমল নির্ঝর-শীতল পর্ব্বতের বাঁকেবাঁকে একলাটি খেলা করতে-করতে পর্ব্বতের পূর্ব-পিঠে আরএকটা গলির মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে; এখানে টিন্-মোড়া দোকান-ঘরে দর্জ্জি কোট সেলাই কচ্ছেন, রাস্তার একপাশে কাদের একগাড়ি জ্বালানী কাঠ খরিদ্দারের অপেক্ষায় পড়ে আছে, হতভাগাচেহারার দুখানা ভাঙা ডাণ্ডি আড্ডার দাওয়ার বাহিরে চড়ায় বাধা পান্সির মতো কাৎ—হয়ে পড়েছে। এই পর্য্যন্তই বিপথের দৌড়; বাকি যেটুকু অতিক্রম কোরে আমাদের বাসায় উঠে যেতে হয় সেটা বিপথ না হলেও বিপদ যে তার আর সন্দেহ নেই! মানুষ সেটাকে পর্ব্বত-শিখর পর্য্যন্ত এমন তিন-চারটে বিশ্রী মোচড় দিয়ে টেনে তুলেছে যে সেখানে কোনো যানও যান্না, পাও চান্না যে চলি।
বিপথের শেষে পথের এই মোড়টা যেন ইস্কুল-মাষ্টার, নয়তো ধর্ম্মপ্রচারক! তার বুলিই হচ্ছে—‘এইবার পথে এসো!’ নয়তো সে বলছে—‘বিপথ হইতে পথে আইস।’ এই যে রোড—সেণ্টভিন্সেণ্ট বা তপস্বী ভিন্সেণ্ট-মহোদয়ের রাস্তা—এখানে নিরালা একটুও নেই;—মানুষের সকৌতুক তীক্ষ্ণদৃষ্টির চোর-কাঁটা এখানে আমার মতো বিপথের পথিকদের জন্য শরশয্যা রচনা কোরে রেখেছে। পেন্সন্ভোগী এক কাবুলী আমীরের নূতন বয়ঃপ্রাপ্ত দুইচারি বংশধর—যাদের মাথায় শিখ-পাগড়ি, গায়ে সাহেবি কোট