বিপথ দুইয়েরই মান রেখে দিনযাপন করছি—সেই সময় দেখি পর্ব্বত একেবারে আপাদমস্তক ফুলের সাজ পোরে সহসা বসন্তের বাসর জমিয়ে বসেছেন। “ফুলন ফুলত ভার ভার!” যত পাতা, তত ফুল! যেখানে যত ধরা ছিল—পাথরের বুকে, শাখায়—শাখায় পাতায়-পাতায়—সূর্য্যের উদয়-অস্তের যত রং, আজ তারা ফুল হয়ে বাহিরে এসেছে! ঋতুরাজের বাঁশীর ডাকে পৃথিবীর সমস্ত সবুজ রংটা দেখছি বিপুল হিল্লোলে মেঘ অতিক্রম কোরে গিরিশিখর পর্য্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে! মেঘের বুক থেকে ইন্দ্রধনুর ফোয়ারা সাতরঙের পিচকারি আকাশে ছিটিয়ে দিচ্ছে; আর সন্ধ্যার কুঙ্কুম, সকালের হলুদে হিমালয়ের সাদা আর গেরুয়া—বসনের দুই পিঠই দুইবেলা রঙের প্লাবনে ডুবিয়ে দিয়ে বইছে উত্তরতীরের-বসন্ত বাতাস।
বসন্তের সঙ্গে অকস্মাৎ পরিচয়ের আনন্দটা আমার পথ-বিপথ দুটোরই ভাবনা ঘুচিয়ে দিয়েছে। আমি আজকাল যখন যে সাজটা হাতের কাছে পাই সেই বেশেই ঋতুরাজের দরবারে ত্রিসন্ধ্যা হাজির দিচ্ছি—একেবারে নির্ভয়ে।
ইনি এই পর্ব্বতের এক নামজাদা মহিলা আর্টিষ্ট! আজ কদিন ধরে আমার যাবার—আসবার পথ আগ্লে হিমালয়ের একটা দৃশ্য-পট লিখতে বসেছেন। সমস্ত উত্তরদিক জুড়ে তুষারের উপরে সন্ধ্যা মুঠো-মুঠো ইন্দ্রধনুচূর্ণ ছড়িয়ে আল্পনা টেনে যাচ্ছেন,—মনেই ধরা যায় না, সে এমন বিচিত্র;—একটুক্রো