বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বিচরণ

ক্রমাগত কম্বল-পরা পাহাড়ীর দল কাঠের বোঝা, ভালুকের আর বানবেড়ালের ছাল নিয়ে, গহন বন থেকে ‘মোনালপাখির’ সোনার পাখা মৌচাকের সোনালী মধু চুরি কোরে ঘরে-ঘরে ফেরি দিচ্ছে। কোনো দিকে কুয়াসার লেশমাত্র নেই; দিনরাত্রি সমান পরিস্কার। কেলগাছের ফলন্ত শাখায় প্রশাখায় গিরি-মাটির একটা রং লেগেছে।

 পার্ব্বতী রুক্ষ্ম রক্ত-বাস আপনার সর্ব্বাঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে কঙ্কালিনী বেশে দেখা দিয়েছেন। অনেক দূরের একটা পাহাড়; তার গায়ে একটি—একটি গাছ দ্বিপ্রহরে চাকা—চাকা কালো দাগ ফেলেছে;—যেন প্রকাণ্ড একখানা বাঘছাল রৌদ্রে বিছানো; এরি উপরে চির-তুষারের ধবল মূর্ত্তি সারাদিন সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। একটির-পর-একটি গিরিচূড়া হিমে সাদা কোরে দিয়ে শীত আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে দেখতে পাচ্ছি। পর্ব্বতে-পর্ব্বতে মানুষের জ্বালানো দীপমালা থেকে দু-দশটা কোরে আলোর ফুল্‌কি প্রতিদিনই দেখছি খসে পড়ছে, আর নীল—আকাশে দীপালী উৎসব ক্রমেই দেখছি জমে উঠ্ছে। এখানকার হাট-ভাঙবার পালা সুরু হয়েছে, পূজোর ছুটির যাত্রীরা দলে-দলে ঘোড়াতে ডাণ্ডিতে ক্রমে পর্ব্বত খালি কোরে দিয়ে নেমে চলেছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্তটা দৈন্য এবং অশোভনতা—দেশী-বিদেশী নির্ব্বিশেষে—তার মুরগীর ঝুড়ি, আধপোড়া হাঁড়ি, ছিট্মোড়া ময়লা রিছানা, দড়ি-বাঁধা বাক্স, কড়ি-বাঁধা হুঁকা, হলুদের ছোপধরা চিনের

১৩৯