ভয় দেখাচ্ছে বরফ পড়ল-বোলে! কাল আমাদের যেতে হবে; কালো মেঘের ভ্রূ-কুটি বিস্তার কোরে একটা ঝড় দূর-পাহাড়গুলোর উপর দিয়ে আজ আমাদের দিকে চেয়ে দেখ্ছে। দিনের আলো নিষ্প্রভ, ধূসর আকাশ দুর্ব্বহ হিমের ভারে যেন নুয়ে পড়েছে। আমি পর্ব্বতের চূড়ায় একটা বন্ধ-বাড়ির বাগানে একলা উঠে এসেছি;—ঠাণ্ডা দিনটির ভিতর দিয়ে একটানা বরফের হাওয়া মুখে এসে লাগ্ছে। একেবারে ছায়ার মতো ঝাপ্সা কালোকালো পাহাড়গুলোর উপরেই আজ তুষারের সাদা ঢেউ যেন এগিয়ে এসে লেগেছে— চোখের সাম্নেই দাঁড়িয়েছে যেন! এ বাগানটা যাদের, তারা চলে গেছে; টিনের ঘরে তালা দিয়ে বাগানের যত ফুলগাছ সব রেখে গেছে। এদের বুড়ো মালী একটা কেলুগাছের তলায় কতকগুলো চারাগাছের উপরে খড়ের ঝাঁপ আড়াল দিচ্ছিল। সে আমাকে তার কাজ ফেলে বাগান দেখাতে লাগলো। কাচের ঘরে সাহেবের যত মূল্যবান সৌখিন ফুলের গাছ— জাল-দিয়ে-ঘেরা; টেনিস্ খেলার একটা চাতাল, এর উপরে একহাত বরফ সেবারে পড়েছিল; এইটে মেম—সাহেবের চা-পানের মণ্ডপ; এই রাস্তা দিয়ে সাহেবের ঘোড়া পর্ব্বতের উপর আস্তে পারে, ওখানে সাহেবের কাছারির তাম্বু পড়ে, বাড়ির এই-দিকটা পুরানো আর ঐ-দিকটে সাহেব অনেক ব্যয়ে নূতন করে বানিয়েছে ইত্যাদি! অনেক দেখিয়ে মালী আমাকে একটা জায়গায় নিয়ে এসে বল্লে,
পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১৪৬
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে
১৪২