পঞ্চাশ।” ঘড়িটা আগাগোড়া হীরে মোড়া এবং তার চেন্টা সমস্তটা পান্না আর চুনি গাঁথা। সকালের আলো সে-দুটোর উপরে পড়ে বিদ্যুতের মতো ঝক্–করে উঠল। সাহেব গুড মর্নিং বলে কাশীপুরে নেমে গেল। সেই লোকটা অন্যমনস্ক-ভাবে সেই ঘড়ি আর চেন দুই-আঙুলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গঙ্গার দিকে চেয়ে আপনার মনে বিড়-বিড় করে কি বক্তে লাগল।
কারো কাছে কিছু নতুন দেখলে অবিন সেটাকে অন্তত ঘণ্টাখানেকের জন্য কেড়ে না নিয়ে থাকতে পারেনা জানতেম; কিন্তু সে আজ যে এমনটা করবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। সাহেব নেমে যেতেই অবিন হঠাৎ সেই লোকটার হাত থেকে ঘড়ি মায় চেন ছোঁ মেরে টেনে নিয়ে নিজের পকেটে পূরে দিয়ে গট্ হয়ে বসল;—আমার মনে হল যেন একটা আগুনের সাপ অবিনের বুকের পকেটে গিয়ে লুকুলো। লোকটা কি মনে করছে এই ভেবে আমার দুই কান লাল হয়ে উঠেছে; অবিন কিন্তু দেখি চোখ-বুজে স্থির হয়ে বোসে। আর সেই লোকটা একটু নড়লেনা– চড়লেনা, অবিনের দিকে ফিরেও দেখলে না,— উল্টোদিকে মুখ ঘুরিয়ে পায়ের উপর পা দিয়ে যেমন ছিল তেমনই রইল; আর দেখলেম তার দুটো আঙুল ঘড়ি-চেনটা নিয়ে যেমন ঘুরছিল এখনো তেমনি আস্তে আস্তে শূন্যে ঘুরছে। কড়া-কথা, মিষ্ট-কথা, মিনতি এবং বিনতি সব যখন হার মেনেছে, তখন আমি অবিনকে বল্লেম—“তোমার সঙ্গে এই পর্যন্ত।” বলেই আমি তার দিকে পিঠ-ফিরিয়ে বসলেম।