বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অস্থি

এবং সাহসও হচ্ছে, এমন সময় সেই লোকটা বেশ ধীরে-সুস্থে বেঞ্চি থেকে উঠে বরাবর থার্ড ক্লাসে ইঞ্জিন—ঘরের ধারে লালপাগ্ড়ি একজন রিভার-পুলিশের জমাদারের সঙ্গে কে জানে খানিকটা কি ফুস্‌ফাস্‌ করে আবার আস্তে-আস্তে নিজের জায়গা এসে দখল করলে! কুঠিঘাটায় তখন লোক উঠতে সুরু হয়েছে। পাহারাওয়ালা-সাহেব ফার্স্টক্লাসে আসবার রাস্তাটা আগ্‌লে দাঁড়িয়ে জাহাজের একজন ছোকরা টিকিট-কালেক্‌টারের সঙ্গে ফিস্-ফাস্ করে কি যে বলাবলি করতে লাগল তা শুনতে পেলেম না; অবিনও চোখবুজে কি ভাবতে লাগল তা আমি জানি না; কিন্তু আমি আমার দুই পকেটে হাত গুঁজে বুট জুতোর সু্ক্‌তলা থেকে মাথার উপরে টুপি-ঢাকা ব্রহ্মতেলো পর্য্যন্ত একটা শীত অনুভব করতে লাগলেম। জাহাজ পুরো—দমে কলকাতার দিকে চলেছে, তার সমস্তটা একটা রুদ্ধ আবেগে থর-থর করে কাঁপছে,—যেন সে আমাদের যত শীঘ্র পারে বড়-বাজারের পণ্টুনে হাজির কল্লে বাঁচে!—যেখানে নিকলের বোতাম-আঁটা কালো কোর্ত্তা গায়ে সাহেব-কন্ষ্টেবল কটা চোখের স্থির দৃষ্টিটা নিয়ে প্রতীক্ষা ক’রে রয়েছে। এমন সময় অবিন হঠাৎ চেঁচিয়ে বলে উঠল—“দেখুন তো আপনার ঘড়িতে কটা?” সমস্ত পৃথিবী ক্ষণকালের জন্য চলা-বলা বন্ধ করে আমার দুই চোখের চসমার কাঁচের মধ্যে দিয়ে সেই লোকটার দিকে যেন চেয়ে দেখলে। লোকটা তার জেব থেকে সেই হীরের ঘড়ি মায় চেন্ হারানিধির মতো অবিনের দিকে বাড়িয়ে ধরে বল্লে— “দশটা বিশ হল!”

১৩