আমাকে ঠাণ্ডা জলের ছিটেয় একেবারে ভিজিয়ে দিয়ে গেল! আমি হঠাৎ চম্কে উঠে চারিদিক চেয়ে দেখলেম, একটা গোলাপ ফুল আমার পাশে পড়ে আছে; কিন্তু সে-লোকটার চিহ্নমাত্র কোথাও নেই। তার পর দিন অবিনের সঙ্গে দেখা হতে সে বল্লে —“ওহে কাল কি তুমি স্বপ্নে ভোর ছিলে? পাশের ষ্টীমার থেকে গোলাপ-ফুলটা তোমার গায়ে ছুঁড়ে মাল্লেম, তাতেও তোমার চৈতন্য হল না, অবাক্!”
গুরুজী
আজ অবিনের গুরুর কাছে সে আমাকে নিয়ে যাবে। শুনেছি তিনি মহা সাধুপুরুষ এবং জাতিস্মর। আমি সেদিন আমার গেরুয়া মলিদার ওভার—কোটটার উপরে আজ-কালের স্বামীজীর ধরণে পাগড়িটা বেঁধে, পকেটে কবীরের পুঁথিখানা নিয়ে, জাহাজে গিয়ে চড়লেম। নাকে সোনার চশমা এবং হাতে রূপো-বাঁধা শুয়োরের দাঁতের ছড়ি আর পায়ে ফানেলের পেণ্টালুনের নীচে ব্রাউন-লেদার বুটটায় আমাকে ফকির কি ফিকিরবাজ পুলিসের সি-আই-ডি অথবা আর-কিছু দেখাচ্ছিল তা আমি ঠিক বলতে পারিনে; তবে আমার মনের ভিতর সেদিন যে একটু গেরুয়ার আভা পড়েছিল এবং আমি গান-বাজনা না করে খুব গম্ভীর হয়ে