বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

চেয়ে দেখলেম সে যেমন ফিট্‌-ফাট্ হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তেমনি আছে; —তার কালো কোটের একটি ভাঁজও এদিক—ওদিক হয়নি এবং তার বুকের মাঝে ফুটন্ত গোলাপ-ফুলটি থেকে একটি পাপ্ড়িও ঝরে পড়েনি। অবিন লম্বায় চওড়ায় আমার চেয়ে বেশী বই কম হবে না, অথচ ঐ ছক্কড় গাড়িটার খাঁচা-কল থেকে কি—করে এমন সাফ্ বেরিয়ে গেল তা জানিনে; কিন্তু তাকে দেখে আমার হিংসে হয়েছিল সত্যি বলছি। ধূলো-মাখা গেরুয়া—পাগড়ি ঝেড়ে-ঝুড়ে সাম্‌লে নিলেম বটে কিন্তু বাড়িতে আয়না দেখে যেমন চোস্ত করে সেটাকে বেঁধেছিলেম তেমনটা আর হল না;— ব্রহ্মতেলোর মাঝখান থেকে কাপড়ের ফুঁপিটা সাপের ফণার মতো আর উদ্যত হয়ে রইল না— বাঁ-কানের উপরে লট্কে পড়ল; এবং এই আকস্মিক দশা-বিপর্য্যয়ে দেহটা অনেকখানি ধূলো মেখে নিলেও, মন তার নিজের গেরুয়া রংটুকু আর বজায় রাখতে পারলে না। অবিনের সঙ্গে সেই রাজার বাড়িতে সাধু-দর্শনে যখন প্রবেশ কল্লেম তখন মন আমার সম্পূর্ণ অসাধু এবং অধীর।

 রং-ওঠা লোহার শিক দেওয়া একটা ফটকের মাঝ দিয়ে ইটের খাদরী-করা চওড়া একটা রাস্তা খানিক সোজা গিয়ে বেড়ির মত ডাইনে-বাঁয়ে ঘুরে টালি বসানো একটা বারান্দার চার ধাপ সিঁড়ির নীচে গিয়ে শেষ হয়েছে; রাস্তাটায় এককালে লাল সুরকি ঢালা ছিল, এখন সেগুলো উড়ে গিয়ে জায়গায় জায়গায় সবুজ সেওলার ছোপ ধরেছে। রাস্তার ধারে—ধারে.

২২