বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুজী

পুরোনো গোটাকতক পাটা-ঝাউ এবং এখানে-ওখানে মাটীর পরী রাখবার গোটা-দুচ্চার ইটের পিল্লে। পরীগুলোর মাটির দেহ বারো—আনা ক্ষয়ে গিয়ে ভিতরের শিক্গুলো বেরিয়ে পড়েছে। বাগানটা বাড়ির পিছন পর্য্যন্ত ঘুরে গিয়ে, একটা টানা রেলিঙের ভিতর দিয়ে যেখানে গঙ্গা দেখা যাচ্ছে সেইখানে একসার শুকনো গাঁদাফুলের গাছে গিয়ে শেষ হয়েছে। সিঁড়ির দুধারে সিংহি বসবার দুটো বড় চাতাল। একটার উপর থেকে সিংহি অনেক কাল পালিয়েছে—সেখানে একটা ছেঁড়া মাদুর রোদে শুকচ্ছে; আর-একটা চাতালে পোড়ামাটির মুখ-খিঁচিয়ে, এখনো এক পশুরাজ ভোম্বলদাস তার খসে—পড়া ল্যাজের সরু শিক্‌টা আকাশের দিকে খাড়া করে থাবাহীন এক পা শূন্যে উঁচিয়ে বসে আছে।

 আমরা সিঁড়ির ক’টা ধাপ পেরিয়ে মোটামোটা তিনটে থাম-দেওয়া বারান্দা পেরিয়ে এক বড় ঘরে ঢুকলেম। ঘরটা খুব লম্বা, মাঝে বাঘ—থাবা পুরোনো মেহগ্নি-কাঠের মস্ত একটা গোল টেবিল—অনেকখানি ধূলো আর খুব জম্‌কালো একটা চিনে-মাটির ফুলদান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফুলদানটার একটা হাতোল আর খানিকটা কানা ভাঙা; আর তার গায়ে বড়-বড় গোলাপ-ফুল, প্রজাপতি আঁকা। ঘরের ঝাড় ক’টা ময়লা গেলাপ দিয়ে মোড়া—আগে লাল, এখন কালো সালুমোড়া শিকে ঝুলছে। ঘরের সবুজ খড়খড়ি ছিল; এখন ফিকে হতে—হতে দাঁড়িয়েছে প্রায় গঙ্গামৃত্তিকার রং। ঘরের পাশের দেয়ালগুলোতে একটা-

২৩