উচিয়েছি আর অবিন ডাকলে—“ওহে এদিকে।” ফিরে দেখি যাঁকে দেখবার জন্যে আসা তিনি দাঁড়িয়ে। চোখা—চোখি হবামাত্র তিনি একটুখানি হেসে কবীরের এই পরখটা সুর করে আউড়ে নিলেন—
“মন ন রঙ্গায়ে, রঙ্গায়ে যোগী কাপড়া।”
আমার পকেটে কবীরের পুঁথি, এটা ইনি নিশ্চয় জেনেছেন; আর কথাগুলো আমাকেই বলা হল এই ভেবে আমি একটু বিস্মিত একটু ভীত আর একটু লজ্জিত হয়েই তাঁর পায়ে প্রণাম কল্পম। তিনি হো হো করে হেসে উঠে বল্লেন—“ওহে অবিন, তোমার বন্ধু যবনের পায়ের ধূলো নিয়ে ফেল্লেন, এটাতো ভালো হল না!”
ইনি যবন! বিস্ময়ে আমি যেন অভিভূত হয়ে অবিনের দিকে চাইলেম। মনে একটু যে ঘৃণার উদয় না হয়েছিল তা নয়। অবিনটা তার পাতলা ঠোঁট খুব চেপে এবং বড়-বড় চোখে প্রকাণ্ড একটা কৌতুকের নিঃশব্দ হাসি নিয়ে আমার মুখে চেয়ে রইল। আমার তার উপর ভারি রাগ হচ্ছিল; সে যদি আগে বলতো তো যবনের পদধুলি—কথাটা মনে আসবামাত্রই সাধু একেবারে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলেন—
“কোই রহীম কোই রাম বখানৈ, কোই কহে আদেস,
নানা ভেষ বনায়ে সবৈ মিল ঢুঁর ফিরে চঁহু দেশ।”
আমার বেশটার উপরে এই ঠেস—সেটা যিনি কল্লেন তিনিও