ঘরের গরুর দুধ, লিপ্টনের চা-পানি—কলের জলের, গঙ্গাজলের নয়—এসে উপস্থিত, তখন অবিনের গুরুকে সাধুবাদ দিতে একটুও আমায় ইতস্তত করতে হল না।
ফকিরটির ভিতরে ফক্রেমি কোথাও ছিল না। দেখলেম তাঁর হাতের চিমটেয় তিনি তিনটে পাখীর খাঁচা ঝুলিয়েছেন এবং তাঁর গেরুয়া-বসনটা টুকরো-টুকরো করে কেটে তিনি বানিয়েছেন খাঁচার ঢাকা এবং পৈতের সুতোয় তিনি বানিয়েছেন ঘুড়ি ওড়াবার সরু লক্; লক্ষ্মীর ঘটটা উল্টে তিনি সরস্বতীর বীণার তুম্বি বানিয়ে নিয়েছেন। বৈরেগীদের যা-কিছু ভণ্ডামি, ও গোঁড়ামির যত-কিছু আসবাব, সবগুলোকে তিনি এমন-এক-একটা অদ্ভুত কাজে লাগিয়েছেন যে সেগুলোর দুর্দশা দেখে দুঃখ না হয়ে, হাসি পাবেই পাবে। মনুসংহিতায়, বাইবেলে, কোরাণে যেগুলো শুদ্ধ, সেগুলো বিরুদ্ধ-কাজে খাটিয়ে তিনি আপনার চারিদিকে এমন একটা হাস্যরসের এবং অদ্ভূত রসের অবতারণা করে রেখেছেন যে মন সেখানে এসে দুঃসাহসে ভরে না উঠে যায় না। আমার মনে হল যেন বাইরের একটা পরিস্কার বাতাস জোর করে আমার বুকের কপাটদুখানা খুলে দিয়ে গেল। এর পর যখন সেই সাধুপুরুষের দিকে চাইলেম তখন তাঁকে গুরু এবং বন্ধু এই দুই ছাড়া আমি আর-কিছু মনে করতে পাল্লুম না। আমি গুন্গুন্ করে গাইতে লাগলুম—“আরে ইন্ দুহু রাহ না পাঈ, হিঁন্দুকী হিংদ বাঈ দেখী, তুর্কণকী তুর্কাঈ।”