হঠাৎ হাতের কাছ থেকে বীণাটা তুলে নিয়ে বন্ধু আমার, গুরু আমার, তিনি গানের শেষ-চরণ দুটো পূর্ণ করে দিলেন— “কহৈঁ কবীর সুনো ভাই সাধো কৌন রাহ হবৈ যাঈ।” তার পর তাঁর সঙ্গে কবির লড়াই চল্লো;— আমি গাই, তিনি জবাব দেন! কিন্তু আমার তেমন সুস্বরও ছিল না, আর বাজাতে তেমন দক্ষতা জন্মজন্মান্তরেও লাভ করব কি না তাও জানিনে।
সে-বেলার ষ্টীমার অনেকক্ষণ ঘাট পেরিয়ে আপনার ঠিকানায় যাত্রী নিয়ে পৌঁছে গেছে—তখন তিনি বীণা রেখে বল্লেন—“চল এখন স্নান করে কিছু খাওয়া যাক্।” আমি গঙ্গার দিকে চাইতেই তিনি বল্লেন—“না, ওখানে নয়, আমার সঙ্গে এসো।”
এইটে তাঁর স্নানের ঘর। সাদা পাথরে মোড়া যেন একটা চাঁদের আলোর গহ্বরে এসে ঢুকলেম। মাঝে স্ফটিকের চেয়ে পরিস্কার গোলাপ-জলের ফোয়ারা! কি বিপুল শুভ্রতার ঘাটে এই মহাপুরুষের সঙ্গে স্নানে নামলেম! যখন আমি এই কথা ভাবছি তখন একটা দাসী—তেমন সুন্দরী আমি কখনো দেখিনি—সোনার একটা পাখীর খাঁচা এনে বন্ধুর হাতে দিয়ে গেল। পাখীর গা-টা বাউলদের শততালি কাঁথাখানার মতো নানা—রঙে বিচিত্র। পাখীটা খাঁচার তলায় বসে ধুঁক্ছে। আর তার রোগা পালকওঠা গলাটা থেকে ‘গোপীযন্ত্রের শব্দের মতো গুব্গুব্ একটা আওয়াজ বেরোচ্ছে। বন্ধু সেই মুমূর্ষু পাখীটিকে খাঁচা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বার করে আচ্ছা—করে গোলাপজলের ফোয়ারায়