বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুজী

বিষ্ণুকে নমস্কার করে ব্রহ্মার কাছে এলেম। তিনি তাঁর মানসপুত্রদের লেখা খানকতক সংহিতা আমার হাতে দিয়ে বল্লেন “এতে যেমন বিধান লেখা হয়েছে সেই মতো যথাবিধানে পৃথিবীতে গিয়ে তুমি প্রায়শ্চিত্ত কর, স্বর্গ আবার তোমার করতলে আসবে।” আমি সেখান থেকেও হতাশ হয়ে দেবাদিদেবের দ্বারে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সমস্ত নিবেদন কল্লেম। তিনি বল্লেন—“তুমি কারো কথা শুনো না, স্বর্গলাভের সহজ উপায় আমার হাতে আছে। এই এক টিপ সিদ্ধি মুখে ফেলে দাও, তোমাকে আর স্বর্গের ফটক পেরিয়ে বেশী দূর যেতে হবে না; আমার দূতেরা ঝুঁটি ধরে এখানে তোমায় ফিরিয়ে আনবে।” আমি তখন জগৎ-জননীর পা জড়িয়ে ধল্লেম। মা আমাকে রূপা করে তিন রঙের তিনটি কপোত দেখিয়ে বল্লেন—“পৃথিবীতে এই তিন জন তোমার বন্ধু থাকবে, এদের চিনে নিও, তবেই জীবন তোমার শান্তিতে কাটবে, না হলে আবার এই স্বর্গবাস আর এই স্বর্গবাসের লাঞ্ছনা তোমার অদৃষ্টে ঘটবে নিশ্চয়।” আমি বিষ্ণুর জপমালা, ব্রহ্মার ঘেরওসংহিতা আর শিবের সিদ্ধির পুঁটুলি টেনে ফেলে সেই কপোত-তিনটিকে বুকে জড়িয়ে ধল্লেম। একটি নীল, একটি গেরুয়া, একটি সাদা। দেখতে-দেখতে সপ্তস্বর্গ রামধনুকের রঙের্ মতো আমার চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে গেল। আমি এইখানে নেমে এলেম। সেই তিনটি কপোতী হচ্ছেন—”

 অবিন অমনি ফস্ক—রে বলে উঠলো—“বস্ গুরুজী, আর না!

৩৩