বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
টুপি

কল্লে না বটে কিন্তু টুপি যার মাথায় বাসা বেঁধেছিল সেই টাকার মতো একটি গোল টাক-ওয়ালা, মানুষটিকে দেখলেম কেউ খাতিরেও আনতে চাইলে না—সেই দুঃখের দিনে।

 কতকাল টুপি-পরার এই ফল—অনেক তদবিরের এই টাক —এ’কে আবার সেই টুপিতে ঢেকে বোগদাদ ছেড়ে আমি বসোরার দিকে রওনা হলুম। যদি কেউ না জোটে তবে টুপির একটা দোকান খুলে দেশসুদ্ধকে টুপি পরিয়ে তবে ছাড়বো! অবিশ্যি এ বুদ্ধিটা বোগদাদে থাকতে-থাকতে আমার মাথায় যোগালে হোতো ভালো, কিন্তু কে জানে, ঐ টুপির গুণে কিম্বা যে লম্বাকান জানোয়ারের চামড়া দিয়ে সেটা আস্তর করা ছিল তারি গুণে, বুদ্ধিটা যখন আমার মাথায় এল তখন বোগদাদ থেকে অনেক দূরে—বসোরায় এসে পৌঁচেছি। এখানে কেউ টুপি মাথায় দেয় না! গোলাপফুলের পাপড়ির গোড়ে-মালা গেঁথে তারা পাগড়ির মতো কিংবা আপনাদের ঐ শিবঠাকুরের সাপের মতো কেবল মাথায় জড়িয়ে রাখে। বোগদাদে আমার মতো সুপুরুষ কমই ছিল; এখানে দেখলেম আমার মতো সুপুরুষকে কেউ বিয়েই করতে রাজি হয় না। তার উপর মাথার মাঝে ছিল সেই টাকা-প্রমাণ টাকটি! যেখানে কেউ টুপি পরে না, সেখানে সর্ব্বদা টুপি দিয়ে টাক ঢেকে যে কি আতঙ্কে আর আসোয়াস্তিতে দিন কাটাতে লাগলেম তা কেমন করে জানাব। আমার কেবলি মনে হতো বসোরার এই গোলাপফুলের খোসবোতে

৪১