দোশালা
শালখানা দেখতে সচরাচর যেমন হয়;—একখানা জরদ্কালো-সবুজ-আর-লাল রঙের চারবাগ। কিন্তু সেখানি পোরে ষ্টীমারের ফার্স্ট-ক্লাসের বেঞ্চিতে এসে যে বসলো তার চেহারাটা মোটেই সেই কাশ্মীরী শালের উপযুক্ত ছিল না; খোঁচাখোঁচা দাড়ি-গোঁফ, মাথাটা কিট্কিটে ময়লা পাগড়িতে ঢাকা, গালের হাড়দুটো উঁচু আর তারি কোটরে শুক্নো আঙুরের রং দুটো বিশ্রী চোখ! অবিনের দস্তুর, নতুন লোক দেখলে সে তার দিকে খানিক কট্মট্ করে না-তাকিয়ে থাকতে পারে না। সেদিনও বেঞ্চিখানার সামনে দাঁড়িয়ে মিনিট—পাঁচেক সেই লোকটাকে আপাদ-মস্তক নিরীক্ষণ করে নিয়ে তবে অবিন আস্তে-আস্তে আমার পাশে এসে বসলো। তার পর এ-ঘাট ও-ঘাট সে-ঘাটে ভিড়তে—ভিড়তে জাহাজ লোকে-লোকে ভর্ত্তি হতে-হতে যখন আমাদের ঘাটে এসে পৌঁছল, সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে এক ভদ্রলোক অবিনকে বলে উঠলেন—“আপনার শালখানা এখনি হাওয়ায় উড়ে গঙ্গায় পড়বে, ওখানাকে একটু সাবধানে রাখুন।” আমরা দুজনে অবাক হয়ে চেয়ে দেখলুম সেই চার—রঙা চারবাগ শালের রুমালটা জাহাজের রেলিং থেকে ঝুল্ছে, সে মানুষ নেই!
শালখানা যার, সে নিশ্চয় গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেনি। সুতরাং আমরা দুই বন্ধুতে নিশ্চিন্ত মনে হাত-ধরাধরি