বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

কল্লেন পোস্ত উর্দ্ধ আর হিন্দি ভাষার খিচুড়ি; -একটা আজগুবি গাঁজাখুরি গল্প—সেই শালখানার আদ্যন্ত কাহিনী। গল্পটা খুব গুরুপাক করেই আগা—সাহেব আমাদের উপহার দিলেন—ভাষায় পেঁয়াজ রুসুন আর হিং তিনেরই বুক্‌নি দিয়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অবিন গল্পটার খুব তারিফ করলেও আমি সেটা থেকে বড়—কিছু রস গ্রহণ করতে পারলেম না। মাথা তখনো আমার কাবুলীর সেই বেসুরো গান আর রবাবের ঝন্ঝনানিতে বিগড়ে ছিল; সুতরাং গল্পের সঙ্গে গল্পকর্ত্তাকেও জাহান্নামে পাঠাতে আমি কিছুমাত্র ইতস্ততঃ কল্পেম না; কিন্তু মনে মনে! কারণ কাবুলীমাত্রেরই যেটা চিরসহচর মোটা সেই লাঠি, তার সামনে মুখ-ফুটে কিছু বলা একেবারেই আমার মতবিরুদ্ধ।

 সকালের গঙ্গার পরিস্কার পটথানির উপর হিজিবিজির মতো এই লোকটার গল্প আর গান! সেটা শেষ করে সে যখন কটা দাড়ির আড়াল থেকে বত্রিশপাটি দাঁত বের করে বল্লে—“বাবু, শাল দেও, অব্ হাম চলে।”—তখন অবিন খুসির সঙ্গে তাকে সত্যিই সে শালখানা দিয়ে দেয় দেখে আমি আর রাগ সামলাতে পারলুম না। ঝাঁ করে অবিনের হাত থেকে শালখানা টেনে নিম্নে বল্লেম —“তুমি কেমন হে! কার শাল তুমি কাকে দাও? কোথাকার একটা জোচ্চোর মিথ্যে বকর্-বকর্ করে ফাঁকি দিয়ে এই দামী শালটা নিয়ে যাবে, এ হতেই পারে না।”

 অবিন আমার ব্যবহার দেখে একটু থতমত খেয়ে গেল।

৫০