বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

দাঁড়িয়ে আছে। সে যে, কি-রকম নিঝুম তা বুঝতেই পারছো। এরি মধ্যে কচি-গলার সেই ‘মা’শব্দ— সে যে আমার অন্তরের অনেক দূরে গিয়ে পৌঁছল, তা কি আর বলতে হবে! আমি যেন ঘুম থেকে চম্কে উঠে সাম্‌নের দিকে চেয়ে দেখলুম—ঠিক আমাদের ফার্স্টক্লাসের ডেকের দিকে মুখ—করে দুখানা বড়-বড় দোতলা জাহাজ দুটো প্রকাণ্ড গোল বারান্দা নিয়ে কুয়াশা ঠেলে আধখানা বার হয়েছে; একটা বারান্দার নীচে বড়-বড় ইংরিজি কালোঅক্ষরে লেখা রয়েছে —‘মাতু’, আর-একটায়—‘কুয়িস্তান’। শেষের জাহাজখানায় লোক দেখলেম না; কিন্তু ‘মাতু’ বলে যে জাহাজ, তার ওই বারান্দার নীচে, যেখানে জাহাজের রান্নাঘর, সেখানে দেখছি, ঝকঝকে কতকগুলো তামার ডেক্‌চির কাছে বসে নীল পাজামা-পরা একটা ছোকরা-খালাসী রং-করা একটা পাখীর খাঁচা বেশ-করে জল দিয়ে ধুচ্ছে। ঠাণ্ডা জলের ছিটে যতবার পড়েছে, ততবারই খাঁচার পাখী সে মা মা বলে চীৎকার করে উঠছে; আর সেই ছোকরা খালাসী তাকে কথ্য এবং অকথ্য ভাষায় গাল পেড়ে চলেছে।

 পাখী-পোষবার সখ আমার চিরদিনই আছে—তার উপর পড়া-পাখী;—আমি একেবারে আমাদের ডেকের নাকের ডগায় গিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষের আর পাখীর রঙ্গটা দেখে নিচ্ছি, এমন সময় পিছন থেকে অবিন আস্তে-আস্তে আমার কাছে এসে বল্লে— “পাখীটা ভালো করে দেখবে তো আমার সঙ্গে এসো।”

৫৪