খোলা জানলার কাচের ভিতর দিয়ে পাটের গোডাউনের টিনের ছাদের একটা আবছায়া দেখা যাচ্ছে। দস্তুরমত আদরআপ্যায়নের পর মীর—সাহেব অবিনের দিকে চেয়ে হেসে বল্লেন—“এবার অনেক দিন পরে এ অঞ্চলে এলেম;— সেই দুবছর পূর্ব্বে আপনার সঙ্গে দেখা, আর আজ এই!”
অবিন আমাকে দেখিয়ে বল্লে - “এই বন্ধুটিকে আপনার কাছে নিয়ে এলেম; এঁর বড় পাখীর সখ; এঁর জন্যে সিঙাপুর থেকে এবার একটা কাকাতুয়া এনে দিতে হবে। যাহোক এবার আপনার সফরের গল্পটা বলুন।”— বলেই অবিন খপ্-করে মীরসাহেবের বিনা অনুমতিতে ডাবা থেকে এক থাবা পান তুলে নিয়ে দুটো নিজের গালে, আর গোটাচারেক আমার হাতে গুঁজে দিয়ে চোখবুজে সোজা— হয়ে বেশ জমিয়ে বসল। আমি পান ক’টা হাতে নিয়ে ইতস্তত করছি দেখে মীর-সাহেব বল্লেন—“পান খান, না হলে গল্প জম্বে না।”—বলেই মীর-সাহেব শুরু কল্লেন—“এদিকে সিঙাপুর, হংকং—ওদিকে সেকেন্দ্রা আর কুস্তুন্তুনিয়া এইটুকুর মধ্যে কত ঘাটেই না আমার জাহাজ ভিড়লো! দিনে-রাতে সুদিনে-দুর্দ্দিনে আলোতে-অন্ধকারে এই পঁচাশী বৎসর কত নদীতেই না পাড়ি দিলুম, কত দরিয়াই না-পার হলুম! কিন্তু এই ভাগীরথী—এ আমার মনকে কেমন যে টানে, তা আমি বোঝাতে পারবো না। এই গঙ্গাতীরেই আমার জন্ম, আর এই বাংলার মাটিতেই আমি ভূমিষ্ঠ হয়েছি। আমার কবর এই মাটিতে, কি