বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

ছোকরার দেখা পেলুম। সে একজন কুলী। আমি তাকে শুধোলুম —“সবাই গেল তুই যে এখানে?” সে বল্লে—“মা পালিয়েছে, তাকে ছেড়ে আমি যাই কেমন করে? “আমি এদিক-ওদিক চেয়ে দেখছি কোথায় তার মা, এমন সময় ছেলেটা চেঁচিয়ে বল্লে— “মীর সাহেব, ওই যে মা!” অন্ধকারে একটা ফুলের ডাল গুহার মুখে ঝেঁপে পড়েছে দেখলেম,—আর কিছু না। ছেলেটা অকথ্য ভাষায় তার মাকে উদ্দেশ—করে গাল-পাড়ছে শুনে আমি যখন অবাক হয়ে রয়েছি, সেই সময় একটা কালো পাথী উড়ে এসে তার কাঁধে বসল—”

 মীরসাহেবের গল্পে বাধা দিয়ে আমি বল্লেম—“গোল -বারান্দার নীচে সকাল-বেলায় আপনার এই জাহাজে ঠিক তেমনি একটা ছেলেকে আমি দেখেছি।”

 মীরসাহেব হেসে বল্লেন—“সে আমারি সঙ্গে আছে বটে। ছেলেটা সেই কালো পাথীটাকে দুই মুঠোর ভিতরে নিয়ে তাকে কেবলি চুমু খাচ্ছে আর গাল পাড়ছে; আর পাখীটাও বলছে— মা, মা মা! এমন সময় বন্দর থেকে শুনলেম কুলীর জাহাজ বাঁশী বাজিয়ে বেরিয়ে গেল। আমি ছেলেটাকে বল্লুম—“জাহাজ তো বেরিয়ে গেল, তুই এখন কেমন-করে দেশে যাবি? ছেলেটা আমার দিকে ফ্যাল্-ফ্যাল্ করে চেয়ে থেকে বল্লে— “দেশ তো আমার নেই।”

 —“তবে জাহাজে চড়ে কোথায় যাচ্ছিলি?”

৬২