বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মাতু

 —“যেখানে সবাই চলেছে।”

 আমি ছেলেটাকে আমার সঙ্গেই রাখলেন। ‘মীর-সাহেব, আপনার দেশ কোথায়?’—এই প্রশ্ন করলে আমি ছেলেটাকে বলি, দেশ নেই। সে এখনো জানে এই জাহাজে করে সে আর আমি আমাদের দেশ খুঁজতে বেরিয়েছি।”

 আমি মীর-সাহেবকে বল্লুম— “ছেলেটা পাথীকে অমন অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেয়, আপনি ওর কাছ থেকে পাখীটা কেড়ে নিয়ে ধম্‌কে দেন না কেন? আহা পাথী যে এমন সুন্দর মা—বলে ডাকে এ আমার কখনো শোনা ছিল না।”

 মীর-সাহেব বল্লেন—“বাবুজী, ওই ছেলেটারই কচি গলার ‘মা’ সুর, পাখীটা সেই চা-বাগানের বড়-দুঃখের কান্নার মাঝ থেকে শিখে নিয়েছে— ছেলেটার সবটাই গালাগালিতে ভরা নয়।”

 এমন সময় সেই ছেলেটা নীল কোর্ত্তা পোরে ছুটে এসে আমাদের বল্লে— “আপনাদের জাহাজ এখনি ছাড়বে, শীঘ্র যান্— কুয়াশা কেটে এখন রোদ উঠেছে।”

 ‘মাতু’-জাহাজের পাশ দিয়েই আমাদের জাহাজ বেরিয়ে গেল। দেখলেম মীর-সাহেবের জাহাজের তিনটে চোঙা দিয়ে পাখীর বুকের পালকের মতো হাল্কা সাদা ধোঁয়া আকাশে উঠচে। ফিরে এসে যখন আবার আমাদের জাহাজ ঘাটে লাগ্‌ল, তখন মীর—সাহেবের জাহাজ যেখানে ছিল, সেখানে মস্ত—একটা ফাঁক দেখলুম।

৬৩