লোকটাকে এ-জাহাজে উঠতেও কেউ দেখেনি, বসে থাকতেও কেউ দেখেনি, এবং কোনো ঘাটে নেমে যেতেও কেউ দেখেছে কিনা তাও জানা গেল না। আমরা দুজনে গিয়ে সেই সাম্নের বেঞ্চিখানা এবং তার চারিদিকটা এমন— করে সন্ধান কল্লুম যে সেই লোকটার লোমশ আলখাল্লার যদি একগাছিও লোম সেখানে থাকতো তবে সেটা আমাদের কাছে ধরা পড়তোই পড়তো। কিন্তু এ কি আশ্চর্য্য ব্যাপার! লোকটা এলো, বস্লো এবং চলে গেল অথচ পৃথিবীর কোনোখানে একটু আঁচড়ও পড়ল না! কোনো-কোনো দিন ঘন কুয়াসার মধ্যে দিয়ে পারাপার করবার সময় দেখেছি কোথাও কিছু দেখা যাচ্ছে না, হঠাৎ একখানা নৌকো তার দাঁড়িমাঝি মালপত্র রসারসি নিয়ে চকিতের মতো কুয়াসার গায়ে ফুটে উঠেই আবার মিলিয়ে গেল;—এ লোকটা ঠিক যেন তেমনি করে আমাদের দেখা দিলে! আমার মনের মধ্যে কেমন যেন শীত করতে লাগল। প্রথম-শ্রেণীতে অবিনের সঙ্গে একলা বসে থাকতে আমার ভালো লাগলো না; আমি তৃতীয়-শ্রেণীতে যেখানে ইঞ্জিনের ধারে আগুনের তাতে কতকগুলা চিনেম্যান তাদের ফ্যাকাসে মুখগুলো তাতিয়ে নিচ্ছে সেইখানে গিয়ে দাঁড়ালুম।
“শেমুখী” বেঞ্চ খালি করে দিলেও অবিন কিন্তু আজ তার নিজের সিংহাসনে বসতে বড় উৎসাহ প্রকাশ কল্পে না। সে বেঞ্চিখানার পিঠে হাত রেখে চুপ—করে দাঁড়িয়ে, থেকে-থেকে খানিক চুরুট টেনে-টেনে দোতলায়—যেখানে সারেংসাহেব চাকা ঘুরিয়ে