কম্পাসের কাঁটা দেখে জাহাজ চালিয়ে যাচ্ছে—মই-বেয়ে সেখানে উঠে গেল। সাধারণ যাত্রীর দোতলায় যাবার হুকুম নেই, আমি নীচেই রইলুম। কিন্তু অবিনের গতিবিধি সর্ব্বত্র। সে দোতলার উপর থেকে দিব্যি আমাদের নাকের উপর দুই পা ঝুলিয়ে সারেংসাহেবের হুঁকোর মজলিস জম্কে তুল্লে। সারা পথটা তার আর কোনো খবরই পেলুম না। ফিরতি-ষ্টীমার যখন আহিরীটোলার ঘাটে ভিড়ছে, এমন সময় অবিন নেমে এসে বল্লে—“ওহে কাল আবার আসছো তো?”
আমি বল্লুম—“আসছি, কিন্তু এ-জাহাজখানার দিকেও আসছি নে!” ঘাটে নেমে জাহাজখানার নাম দেখে নিলুম—‘প্রতিভা’।
তার পরদিন থেকে বড়বাজারের ঘাটে ‘প্রতিভা’টি বাদ দিয়ে এ-লাইনের আর যত-নামের যত-জাহাজ সব ক’খানাতে চড়ে বেড়াই কিন্তু অবিনকে আর দেখতে পাই নে! সে যে কখন কোন্ জাহাজ ধরে যাতায়াত করে, তার আর সন্ধান পাই নে। দূরবীন লাগিয়ে দেখেছি ‘প্রতিভা’র ডেকে তার জায়গা শূন্য পড়ে আছে! লোকটা গেল কোথা? শেমুষীর মতো তাকেও গা-ঢাকা হতে দেখে আমি একদিন সন্ধ্যার সময় তাদের আহিরীটোলার ঘাটে নেমে জেটি পেরিয়ে অবিনদের বাড়ির দিকে চলেছি, এমন সময় রাস্তার মোড়ে দেখি অবিন হন্—হন্ করে ষ্টীমার ঘাটের দিকে চলেছে; সঙ্গে আলবোলা আর ক্যাম্বিসের ব্যাগ নিয়ে তার চাকর গোবিন্দ। তখন সন্ধ্যা সাতটা হয়ে গেছে। বড়বাজার থেকে শেষ-ষ্টীমার রাতের