বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

জেটীতে নেমে দাঁড়াল। আমি দেখলেম সেটা ঝুড়ি নয়, সেটা তার সেই টুপিটা। অবিন বল্লে—“দেখলে?” দেখতে আমার ভুল হয়-নি কিন্তু শেমুষীর সঙ্গে তার কি লড়াই বেধেছিল যথন তাকে প্রশ্ন করুম সে বল্লে— “ভুলে গেছি, মনে নেই।”



ইন্দু

 প্রিয়দর্শন, প্রিয়ভাষী, সদাই হাস্যমুখ, ভায়া-আমার মূর্ত্তিমান আনন্দের মতো,—পণ্টুনের পুলিশ থেকে জাহাজের যাত্রী, সারেং, খালাসী সকলের কাছে প্রিয়; কেবল অবিন ডাকে তাঁকে প্রিয়া বলে!

 কবে কোন্ সূত্রে ভাষা যে আমার ষ্টীমারের ‘শুশুক-সভা’ বা ডলফিন্-ক্লাবের প্রেসিডেণ্ট অবিনের কাছ থেকে এই সম্মানের উপাধিটা লাভ করেছিলেন তা আমার মতো একজন নতূন-শুশুকের জানা সম্ভব নয়; কেন না ষ্টীমারের ডেকে সবেমাত্র একটি শীতকাল কাটিয়ে আমি প্রথম-বসন্তে পা দিয়েছি, সুতরাং শুশুক-সভার বাই-ল অনুসারে আমার এখনো দুধে-দাঁত ওঠেনি,—আসল বয়েস আমার যতই হোক না।

 এখানকার নিয়ম অনুসারে ক্রমান্বয়ে চার-পাঁচটা বছর, দিন—আট-প্রহর, ষড়ঋতুর সবক’টাতে জল-বাতাস আলো-অন্ধকারে খেয়া

৭২