করা আধা-পাখী আধা-মানুষ একটি কিন্নরী-বসানো হিমালয়ের দেবদারু যষ্টি।
এই দুই লাঠিতে যেদিন ঠোকাঠুকি বাধ্লো, সেদিন জলে-বাতাসে মেঘেতে-আলোতে কোনো বিবাদ ছিল না। এমন-কি, ওস্তাদী রাগরাগিনী আজ বাদী-বিবাদী সব সুরগুলো নিয়ে, আমাদের কাছ থেকে দূরে ছিল। একটা আরাম আর শান্তির মধ্যে দিয়ে জাহাজ চলেছে উত্তরের হাওয়া কেটে। জলের ঢেউগুলোতে কিছুমাত্র চঞ্চলতা নেই; যেন ঘুমন্ত বুকের নিশ্বাসের মতো আস্তে উঠছে, পড়ছে। সূর্যাস্তের দিকে কোনো রঙের খেলা নেই। স্বর্ণচাপার মতো একটি স্থির দীপ্তি সমস্ত—পশ্চিম আলোকরে রয়েছে। তারি উপরে তীরের গাছ যেন কালি দিয়ে আঁকা দেখছি! ভরা-পালের নৌকো যেমন, আজকের সন্ধ্যায় সমস্ত পৃথিবী তেমনি যেন চম্পাই রঙের প্রকাণ্ড পালখানি তুলে, রাত্রির মুখে স্বচ্ছন্দ-গতিতে ভেসে চলেছে নিঃসাড়ায়। প্রাতঃসন্ধ্যার অরুণোদয়ের তপ্তকাঞ্চনের সঙ্গে কতটা হীম মেশালে সায়ংসন্ধ্যার এই চাঁপাফুলি আলোর রংটি পাওয়া যায়—এটা যখন আমি বিশ্বকর্ম্মার কাছ থেকে মনের নোট্বুকে টুকে নিচ্ছি, থার্ড ক্লাসের একখানা বেঞ্চির কোণে বসে, সেই সময় ফার্ষ্ট ক্লাসের দিকে করেন কি! ‘করেন-কি’! রব উঠলো! কেউ জাহাজ থেকে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল কি না দেখবার জন্যে তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখি অবিন তার হাঁটুর চাড়া দিয়ে তার নিজের লাঠিখানা ধনুকের মতো