বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইন্দু

বেঁকিয়েছে; তার মুখ গোলাপফুলের মতো রাঙা; আর-একটু হলেই লাঠিখানা দু-টুকরো হয়ে গঙ্গা পাবে। ভায়াই যে আজকের ধনুক ভঙ্গের নাটের গুরু এবং তাঁর লাঠিটা বাঁচাতে তিনি অবিনকে আপনার লাঠি ভাঙতেই যে উস্কে দিয়েছেন, এটা বুঝলুম। অবিনের লাঠিটা এত সুন্দর যে সেটাকে ভেঙে ফেলা আর একটা মানুষের ঘাড়মট্কে জলে ফেলে—দেওয়ায় আমার কোনো তফাৎ মনে হল না। মানুষের সৃষ্টিকে নষ্ট করাও যা, ভগবানের সৃষ্টিকে আঘাত দেওয়াও তাই,—একই পাপ আমি মনে করি। অবিনের লাঠির মাথায় সেই কিন্নরীর বাঁশীর সাতটা সুর যেন একটা কান্না নিয়ে আমাকে মিনতি করতে লাগল— ‘বাঁচাও, বাঁচাও!’ আমার বুকের মাঝে কেমন করতে লাগলো। কিন্তু মুখ দিয়ে আমার একটি কথাও বার হল না। দেখলেম লাঠিটা ক্রমে বেঁকছে। লাঠি এতটা যে লুইতে পারে তা আমি ধারণাই করতে পারি-নি! পাহাড়ের রস টেনে বেড়েছিল সেই সরু দেবদারুর ডাল! অবিন সমস্ত জোর দিয়েও তাকে ভাংতে পারলে না। লাঠিখানা বেঁকে সাপের মতো তার দুই পা জড়িয়ে ধরলে। তখন আমি সাহস—করে এগিয়ে গিয়ে অবিনের হাত ধরতেই অবিন একটা নিশ্বাস—ফেলে লাঠিখানা ছেড়ে দিলে। দেখলেম সেই নিশ্বাসের সঙ্গে অবিনের মুখ কাগজের মতো পাঙাস হয়ে গেল। যেন একটা দুঃস্বপ্ন থেকে উঠে অবিন আমার দিকে চেয়ে দেখলে। তার পর আমাকে সেই লাঠিটা দিয়ে বল্লে—“নাও, তোমাকে দিলুম।”

৭৫