বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পথে-বিপথে

 লাঠিটা আমার কাছে শিল্প-হিসাবে খুব মূল্যবান সুতরাং সহজে বখশিস্ নিতে আমার লজ্জা হল। কিন্তু দিয়ে একবার ফিরে নেওয়া অবিনের কুষ্ঠিতে লেথেনি সুতরাং অন্তত তখনকার মতো হাস্যমুখে লাঠিটা আমায় নিতে হল। তাছাড়া লাঠিটাকে এখন কিছুদিন অবিন এবং তার প্রিয়া—আমার ভায়াটির কাছ—থেকে সরিয়ে রাখলে সবদিকেই মঙ্গল, এটাও সেই লাঠিটা খুসির সঙ্গে ধন্যবাদ দিয়ে বখশিস নেবার আর-একটা কারণও বটে। কাজেই লাঠিটা সেদিন আমার হাতে-হাতে আমার বাড়িতেই এল। তাড়াতাড়ি এক-কোণে সেটাকে রেখে আমি গায়ের কোট ছেড়ে রাখব, এমন সময় বাতির আলোয় লাঠির গায়ে একটি বিদ্যুতের রেখার মতো একটা নাম ঝল্‌কে উঠলো—‘ইন্দু’। তিল তিল হীরের আলো দিয়ে সেই নাম লেখা। লাঠিটা বাইরে ফেলে রাখতে আমার আর সাহস হল না; আমি সেটাকে আমার সঙ্গে সঙ্গেই রাখলুম। সঙ্গে নিয়ে খেলুম, সঙ্গে নিয়ে শুলুম। অবিন লাঠিটাকে কি ভাবে দেখতো তা জানিনে, কিন্তু তার ইন্দু বা ইন্দুমতী অথবা ইন্দুমুখীর লাঠিটা আমার যেন বৃদ্ধস্য তরুণীর মতো—চলিত-কথায় অন্ধের নড়ি—হয়ে উঠলো। পাছে তাকে হারাই, পাছে সুড়ঙ্গ কেটে চোর আমার কোলের কাছ থেকে চুরি করে পালায় এই ভাবনাতে আমার খেয়ে সুখ ছিল না, শুয়ে ঘুম ছিল না।

 ক-দিন পরে অবিনের সঙ্গে যখন দেখা, তখন প্রথমে আমার ভয় হল অবিন বুঝি-বা লাঠিটা ফিরিয়ে নেয়,—যদিও অবিনের

৭৬