বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পথে-বিপথে - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৮).pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ইন্দু

কোনো-দিন এমন স্বভাব নয়, বেশ জানতেম। সেদিন আমি লাঠিটা খুব জোর-করে মুঠোর ভিতরে যে রাখলুম তা বলতেই হবে। সেদিন পূর্ণিমার রাত্রি, গঙ্গার একটা মনোরম শোভার মধ্যে দিয়ে জাহাজ চলেছে। পশ্চিমতীরে দেখতে পাচ্ছি সাহেবমিস্ত্রীর বানানো রাজাদের একটা পুরানো বাগান— বাড়ী; পূব পারে দেখছি—প্রকাণ্ড একটি মন্দির—ঘাটের ধারেই; পূর্ণিমার চাঁদ জলের উপর দিয়ে একটি আলোর পথ আমাদের জাহাজ থেকে এই ঘাটের কোল পর্য্যন্ত রচনা করেছে। আর এই আলোর পথের ধারটিতে জাহাজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে অবিন—পূর্ণিমার চাঁদের দিকটিতে চেয়ে। অবিনকে আমি কতবার এমন—করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি কিন্তু আকাশের পূর্ণ ইন্দু আর আমার হাতের মুঠোর মধ্যে হীরের বিন্দু দিয়ে লেখা নামটার মিল দেখে মনটা আমার নড়ে উঠলো; আমার মনে হতে লাগলো অবিন হয় তো ওই আকাশের চাঁদের মধ্যে তার ইন্দুমতী বা ইন্দুমুখীকে দেখতে পাচ্ছে; হয় তো এই চাঁদের আলোয় ঝক্ঝকে তারাগুলির মধ্যে দিয়ে সে তার অনেক-দিনের-হারানো ইন্দুর কাছে বহু দূরপথে—বহুদিনের পথে প্রাণের আকুতি বিরহী—যক্ষের মতো সারাজীবন ধরে পাঠাচ্ছে—প্রতি পূর্ণিমায়! হয় তো পূর্ব্বজন্মে অবিনের এ-জন্মের ইন্দু ছিল অলকার তন্বী শ্যামা ইন্দুরেখা কিন্নরী। হয় তো সেখানে কোনো নাগেশ্বর চাঁপার কুঞ্জবনে অবিনে-তাতে প্রথম দেখা; তার পর প্রণয়-স্বপ্নের মাঝখানে দুজনের সহসা বিচ্ছেদ

৭৭