লেখবার টেবিল এবং তার উপরে দেয়ালে ঝোলানো পাঁজির প্রকাণ্ড একটা এক এবং তার শিয়রে বড়-বড় অক্ষরে এপ্রেলটার দিকে আমার তখন দৃষ্টি পড়লো। আমি একবার ডাক্তারের দিকে, একবার নিজের দিকে চেয়ে সুবোধ ছেলের মতো গল্পের খাতা বন্ধ কল্পেম। ঘড়িতে তখন বেলা দুটো-উনপঞ্চাশ।
পর্-ঈ-তাউস্
ওপারে মুচিখোলার নবাবী নিলেমে চড়েছে, এপারে সবুজ ঘাসের ঢালুর উপরে দুই বন্ধুতে পা-ছড়িয়ে চড়ুই-ভাতির পরে একটু গড়িয়ে নিচ্ছি,—ঠিকে-গাড়ির ঘোড়াগুলো হঠাৎ কাজের অবসরে এক-এক-বার যেমন ধূলোয় লুটোপুটি খেয়ে হাত-পা ছড়িয়ে নেয়।
সেদিন একটা ভাঙা খাঁচা জলের স্রোতে ভেসে চল্তে দেখে আমি অবিনকে তামাসা করে বলেছিলেম—“ওহে খাঁচাটা নবাবের চিড়িয়াখানার দিক থেকে যখন ভেসে আস্ছে, তখন এটা পক্ষীরাজের খাঁচা হলেও হতে পারে। দেখ-না সাঁৎরে, যদি ওটাকে ধরতে পারো।” অবিন সাঁতার একেবারে না জানলেও সেদিন যে-কোরে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আর খাঁচাটা না তুলে, তাঁকে জেলে ডেকে জল থেকে তুলে আনার জন্যে আমার সঙ্গে