আটা আর ঘি মেখে রুটি-সেঁকতে বসে গেলেন। আমার দিকে আর দৃক্পাতও কল্লেন না।
দুপুরের রোদে আমি একলা মুখ-শুকিয়ে এক গাছের তলায় বসে আছি, এমন সময় ঠাকুর আমার দিকে চেয়ে চেঁচিয়ে বল্লেন— “বাবা, তোমার কাছে কিছু টাকা-কড়ি আছে?” কি আশ্চর্য্য! একেবারে বাংলা কথা, টান-টোন সব বাঙালির মতো, কিচ্ছু বোঝার যো নেই যে তিনি পশ্চিমের খোট্টা! “পয়সা থাকলে কি আমার এমন দশা হয় বাবা!” —বলেই আমি চোখ-মুছতে থাকলেম। বাবাজী তখন আমাকে কাছে বসিয়ে, পিঠে হাত বোলাতে—বোলাতে বল্লেন—“তাতে আর দুঃখু কি! আমি বুঝেছি, তোমাকে এই কুম্ভুমেলায় দিনে একলা দশাশ্বমেধে ডুব দিতে দেখেই আমি বুঝেছি- থার্ডক্লাসের ভাড়াটা পর্য্যন্ত তোমার অভাব। তা কেঁদোনা বাবা, আমি এখনি তোমাকে কুম্ভুস্থলে পাঠাব। এই ঘটিটায় ইঁদারা থেকে একটু জল আনো তো।”
আমার তখনো মোহ কাটেনি। হরিদ্বারে কুম্ভুস্নান আমার পক্ষে কেমন-কোরে সম্ভব হয়, যখন কাশীতে বসে আমি দেখতে পাচ্ছি হিন্দু ইউনিভারসিটির ঘড়ির কাঁটা একটা—উনপঞ্চাশে পৌঁচেছে প্রায়! যেমন এইকথা মনে করা, অমনি বাবা তাঁর বাঁ-হাতের কড়ে-আঙুলটি আমার কপালে ঠেকিয়ে দিলেন। ব্যস, একেবারে হরিদ্বারে উপস্থিত! সেই পিতলের লোটাটি পর্য্যন্ত আমার হাতে-হাতে হরিদ্বারে এসে হাজির, অবশ্য হরিদ্বার আমি