এর পূর্ব্বে দেখিনি; কিন্তু বাবাকে দেখে যেমন বুঝেছিলেম ঠিকলোকটি পেয়েছি, এবারেও তেমনি বুঝলেন ঠিক-জায়গাটিতে এসে পৌচেছি। শুধু তাই নয়, মনে হ’ল যেন এইখানে আমি অনেকদিনই এসেছি; আর-পাঁচজনের মতো আমিও আজ এক-কোমর বরফ-জলে দাঁড়িয়ে গঙ্গার স্তব আওড়াচ্ছি আর থেকে-থেকে ডুব দিচ্চি। চারিদিকের লোকজন, পাহাড়পর্ব্বত, মন্দিরঘাট সত্যির চেয়ে বেশী সত্যি হয়ে যেন আমার চোখে পড়তে লাগলো। এক রাজা হাতি-ঘোড়া লোক-লস্কর আর বন্ধ দু’তিনখানা পাল্কিসুদ্ধ আমার পাশে স্নানে নামলেন। পবিত্র জলের পরশ পেয়ে কাঠের পাল্কিগুলো বুঝি সোনার পাল্কি হয়ে যায়, আর হাতি-ঘোড়াগুলো বুঝিবা রাজা-রাজড়া হয়ে দেখা দেয়—এই ভেবে আমি সেদিকে চেয়ে আছি এমন-সময় একটা মোটা-পেট পুলিশম্যান্ পিছন-থেকে আমাকে ধমক দিয়ে বল্লে— “এ বাবু, ক্যা দেখ্তা? ভাগো হিঁয়াসে।”
আমি পুলিশের ভয়ে তাড়াতাড়ি একটা কুলকুচি করে যেমন উঠে দাঁড়িয়েছি অমনি চারিদিক থেকে যেখানকার যত পাণ্ডা “হাঁ—হাঁ কল্পে কি! গঙ্গায় কুল্কুচি কল্লে! সবার স্নান মাটি হল!”—বলে তাদের নামাবলীর পাগ্ড়িতে আমায় পিছুমোড়া করে বেঁধে কিল-চাপড় মেরে আমায় আধ-মরা কোরে একটা অন্ধকার ঘরে টেনে ফেলে দিলে। তারপর কি হলো জানিনে, কতক্ষণই বা অজ্ঞান ছিলেম বলা যায় না, কিন্তু খানিক পরে চোখ-