পদার্থ বিদ্যা। o দ্রব্যের নির্দিষ্ট আকার নাই, তাহাদিগকে যেমন পাত্রে রাখা যায়, তদনুরূপ আকৃতি ধারণ করে। সকল কঠিন দ্রব্যে এই কঠিনত্ব গুণ সমান পরিমাণে দৃষ্ট হয় না। কোন কোন দ্রব্য ঈষৎ উত্তপ্ত হইলেই তরলীকার ধারণ করে, আবার কোন কোন দ্রব্য এরূপ কঠিন যে অত্যন্ত উত্তপ্ত হইলেও দ্রব হয় না । যাহা হউক, অল্প পরিমাণেই হউক আর অধিক পরিমাণেই হউক, কঠিন দ্রব্য মাত্রেই এই গুণ দৃষ্ট হয়। ফলতঃ, এই গুণ থাকতেই তাহাদিগকে কঠিন পদার্থ বলা যায়। ২১ । কঠোরহ ও কোমলত্ব। যে গুণ থাকাতে এক বস্তু অন্ত বস্তু দ্বারা সহসা অঙ্কিত হয় না, তাহাকে কঠোরতা বলে। যদি দুইটি বস্তু এরূপ হয় যে, তাহাদিগের একের দ্বারা অপরটাকে অঙ্কিত করিতে পারা যায়, তাহ। হইলে প্রথমটীকে দ্বিতীয়ট অপেক্ষা কঠোর ও দ্বিতীয়টাকে প্রথমটা অপেক্ষ কোমল বলা যায়। কোমলত্ব ও কঠোরত্ব পরম্পর বিরুদ্ধ ধৰ্ম্ম নয়। বস্তুত কঠোরত একটা আপেক্ষিক গুণ মাত্র। এক বস্তুর সহিত তুলনা করিলে যাহাকে কঠোর বোধ হয়, তাহাকেই আবার অন্ত এক বস্তুর সহিত তুলনায় অতিশয় কোমল বা মৃদু বলুির বিবেচনা হইয়া থাকে। কাচকে ছুরি দ্বারা অঙ্কিত করিতে পারা যায় না, কিন্তু হীরক দ্বারা অনায়াসে কাটিতে পারা যায়। সুতরাং কাচ ইস্পাত অপেক্ষা কঠোর ও হীরক অপেক্ষ মৃদ্ধ। এমন কঠিন বস্তুই নাই, যাহ হীরক দ্বারা অঙ্কিত হয় না। পরন্তু, হীরককে অঙ্কিত করিতে পারে, এমন কঠিন বস্তু কুত্ৰাপি দেখিতে পাওয়৷ যায় না। এই নিমিত্ত হীরককে সৰ্ব্বাপেক্ষ কঠিন পদার্থ
পাতা:পদার্থ বিদ্যা (মহেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য্য).djvu/৪৪
অবয়ব