প্রকাশিত হইয়াছে তাহা হইতে বুঝা যায় রক্তে ও ধর্ম্মে অনার্য্যদের মিশ্রণকে গ্রহণ করিয়াও তাহাকে বাধা দিবার প্রয়াস কোনো দিন নিরস্ত হয় নাই। এইরূপে প্রসারণের পরমুহূর্ত্তেই সঙ্কোচন আপনাকে বারম্বার অত্যন্ত কঠিন করিয়া তুলিয়াছে।
একদিন ইহারই একটা প্রবল প্রতিক্রিয়া ভারতবর্ষের দুই ক্ষত্রিয় রাজসন্ন্যাসীকে আশ্রয় করিয়া প্রচণ্ড শক্তিতে প্রকাশ পাইয়াছে। ধর্ম্মনীতি যে একটা সত্য পদার্থ, তাহা যে সামাজিক নিয়ম মাত্র নহে—সেই ধর্ম্মনীতিকে আশ্রয় করিয়াই যে মানুষ মুক্তি পায়, সামাজিক বাহ্য প্রথাপালনের দ্বারা নহে, এই ধর্ম্মনীতি যে মানুষের সহিত মানুষের কোনো ভেদকে চিরন্তন সত্য বলিয়া গণ্য করিতে পারে না ক্ষত্রিয় তাপস বুদ্ধ ও মহাবীর সেই মুক্তির বার্ত্তাই ভারতবর্ষে প্রচার করিয়াছিলেন। আশ্চর্য্য এই যে তাহা দেখিতে দেখিতে জাতির চিরন্তন সংস্কার ও বাধা অতিক্রম করিয়া সমস্ত দেশকে অধিকার করিয়া লইল। এইবার অতি দীর্ঘকাল পর্য্যন্ত ভারতবর্ষে ক্ষত্রিয়গুরুর প্রভাব ব্রাহ্মণের শক্তিকে একেবারে অভিভূত করিয়া রাখিয়াছিল।
সেটা সম্পূর্ণ ভাল হইয়াছিল এমন কথা কোনোমতেই বলিতে পারি না। এইরূপ একপক্ষের ঐকান্তিকতায় জাতি প্রকৃতিস্থ থাকিতে পারে না, তাহার স্বাস্থ্য নষ্ট হইতে বাধ্য। এই কারণেই বৌদ্ধযুগ ভারতবর্ষকে তাহার সমস্ত সংস্কারজাল হইতে মুক্ত করিতে গিয়া যেরূপ সংস্কারজালে বন্ধ করিয়া দিয়াছে এমন আর কোনোকালেই করে নাই। এতদিন ভারতবর্ষে আর্য্য অনার্য্যের যে মিলন ঘটিতেছিল তাহার মধ্যে পদে পদে একটা সংযম ছিল—মাঝে মাঝে বাঁধ বাঁধিয়া প্রলয় স্রোতকে ঠেকাইয়া রাখা হইতেছিল। আর্য্যজাতি অনার্য্যের কাছ হইতে যাহা কিছু গ্রহণ করিতেছিল তাহাকে আর্য্য করিয়া লইয়া আপন প্রকৃতির অনুগত করিয়া লইতেছিল—এমনি করিয়া ধীরে ধীরে একটি প্রাণবান জাতীয় কলেবর গড়িয়া আর্য্যে অনার্য্যে একটি আন্তরিক সংস্রব ঘটিবার সম্ভাবনা হইয়া