চুকিয়া যায়; তাহার দ্বারা দুই কাজই হয়। এক, হিন্দুর যে ধর্ম্ম আমার বিশ্বাসবিরুদ্ধ তাহাকে অস্বীকার করা হয় এবং যে ধর্ম্মকে আমি জগতে শ্রেষ্ঠধর্ম্ম বলিয়া জানি তাহাকেও স্বীকার করিতে পারি।
এ সম্বন্ধে ভাবিবার কথা এই যে, হিন্দু বলিলে আমি আমার যে পরিচয় দিই, ব্রাহ্ম বলিলে সম্পূর্ণ তাহার অনুরূপ পরিচয় দেওয়া হয় না, সুতরাং একটি আর একটির স্থান গ্রহণ করিতে পাবে না। যদি কাহাকে জিজ্ঞাসা করা যায়, “তুমি কি চৌধুরী বংশীয়”, আর সে, যদি তাহার উত্তর দেয়, “না আমি দপ্তরীর কাজ করি,” তবে প্রশ্নোত্তরের সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য হয় না। হইতে পারে চৌধুরীবংশের কেহ আজ পর্য্যন্ত দপ্তরীর কাজ করে নাই, তাই বলিয়া তুমি দপ্তরী হইলেই যে চৌধুরী হইতে পারিবেই না এমন কথা হইতে পারে না।
তেমনি, অন্ধকার দিনে হিন্দুসমাজ যাহাকে আপনার ধর্ম্ম বলিয়া স্থির করিয়াছে তাহাই যে তাহার নিত্য লক্ষণ তাহা কখনই সত্য নহে। এ সম্বন্ধে বৈদিক কাল হইতে অদ্য পর্য্যন্তের ইতিহাস হইতে নজির সংগ্রহ করিয়া পাণ্ডিত্যের অবতারণা করিতে ইচ্ছাই করি না। আমি একটা সাধারণতত্ত্বস্বরূপেই বলিতে চাই, কোনো বিশেষ ধর্ম্মমত ও কোনো বিশেষ আচার কোনো জাতির নিত্য লক্ষণ হইতেই পারে না। হাঁসের পক্ষে জলে সাঁতার যেমন, মানুষের পক্ষে বিশেষ ধর্ম্মমত কখনই সেরূপ নহে। ধর্ম্মমত জড় পদার্থ নহে—মানুষের বিদ্যাবুদ্ধি অবস্থার সঙ্গে সঙ্গেই তাহার বিকাশ আছে—এই জন্য ধর্ম্ম কোনো জাতির অবিচলিত নিত্য পরিচয় হইতেই পারে না। এই জন্য যদিচ সাধারণত সমস্ত ইংরেজের ধর্ম্ম খৃষ্টানধর্ম, এবং সেই ধর্ম্মমতের উপরেই তাহার সমাজবিধি প্রধানত প্রতিষ্ঠিত তথাপি একজন ইংরেজ বৌদ্ধ হইয়া গেলে তাহার যত অসুবিধাই হউক্ তবু সে ইংরেজই থাকে।
তেমনি ব্রাহ্মধর্ম্ম আপাতত আমার ধর্ম্ম হইতে পারে, কিন্তু কাল আমি প্রটেষ্টাণ্ট্ পর্শু রোমান ক্যাথলিক এবং তাহার পর দিনে আমি