বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:পরিচয় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আত্মপরিচয়
৪৯

কাহারও কোনো কথা চলিতে পারে না। এটা ত একটা বিশ্বাসমাত্র, এরূপ বিশ্বাস সত্যও হইতে পারে মিথ্যাও হইতে পারে, অতএব যে লোকের প্রাণ লইয়া কথা সে যদি নিজের বিশ্বাস লইয়া অন্য কোনো একটা পন্থা অবলম্বন করে তবে গায়ের জোরে তাহাকে নিরস্ত করিতে পারি কিন্তু সত্যের জোরে পারি না। গায়ের জোরের ত যুক্তি নাই। পুলিস দারোগা যদি ঘুষ লইয়া বলপূর্ব্বক অন্যায় করে তবে দুর্ব্বল বলিয়া আমি সেটাকে হয় ত মানিতে বাধ্য হইতে পারি কিন্তু সেইটেকেই রাজ্য শাসনতন্ত্রের চরম সত্য বলিয়া কেন স্বীকার করিব? তেমনি হিন্দুসমাজ যদি ধোবানাপিত বন্ধ করিবার ভয় দেখাইয়া আমাকে বলে অমুক বিশেষ ধর্ম্মটাকেই তোমার মানতে হইবে কারণ এইটেই হিন্দুধর্ম্ম—তবে যদি ভয় পাই তবে ব্যবহারে মানিয়া যাইব কিন্তু সেইটেই যে হিন্দুসমাজের চরম সত্য ইহা কোনোক্রমেই বলা চলিবে না। যাহা কোনো সভ্য সমাজেরই চরম সত্য নহে তাহা হিন্দুসমাজেরও নহে, উহা কোটি কোটি বিরুদ্ধবাদীর মুখের উপরেই বলা যায়—কারণ, ইহাই সত্য।

 হিন্দুসমাজের ইতিহাসেও ধর্ম্মবিশ্বাসের অচলতা আমরা দেখি নাই। এখানে পরে পরে যত ধর্ম্মবিপ্লব ঘটিয়াছে এমন আর কোথাও ঘটে নাই। আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, যে-সকল দেবতা ও পূজা আর্য্যসমাজের নহে তাহাও হিন্দুসমাজে চলিয়া গিয়াছে—সংখ্যাহিসাবে তাহারাই সব চেয়ে প্রবল। ভারতবর্ষে উপাসকসম্প্রদায়সম্বন্ধে যে কোনো বই পড়িলেই আমরা দেখিতে পাইব হিন্দুসমাজে ধর্ম্মাচরণের কেবল যে বৈচিত্র্য আছে তাহা নহে, তাহারা পাশাপাশি আছে, ইহা ছাড়া তাহাদের পরস্পরের আর কোনো ঐক্যসূত্র খুঁজিয়া পাওয়া যায় না। যদি কাহাকেও জিজ্ঞাসা করি, কোন্ ধর্ম্ম হিন্দুর ধর্ম্ম, সেটা না মানিলে তুমি আমাকে হিন্দু বলিয়া স্বীকার করিবে না? তখন এই উত্তর পাওয়া যায় যে-কোনো ধর্ম্মই কিছুকাল ধরিয়া যে-কোনো সম্প্রদায়ে হিন্দুধর্ম্ম বলিয়া গণ্য হইয়াছে। ধর্ম্মের এমনতর জড়সংজ্ঞা আর হইতেই পারে না। যাহা শ্রেয়, বা